কার্গোর ধাক্কায় সেতু বিধ্বস্ত, জনদুর্ভোগ চরমে
 কার্গোর ধাক্কায় বিধ্বস্ত আমুয়া বন্দরের বিষখালী নদীর সেতু (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
বরগুনা, ১০ জুন (মনির হোসেন কামাল/আমাদের বরিশাল ডটকম): বরগুনার বামনা ও ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ার সংযোগস্থল আমুয়া বন্দরের বিষখালী নদীর সেতুটি কার্গোর ধাক্কায় বিধ্বস্ত হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। এর ফলে বরগুনার বামনা ও আমুয়া বন্দর ছাড়াও বামনা, মিরুখালী ও মঠবাড়িয়া এলাকার কয়েক লাখ মানুষ যোগাযোগ সংকটে পড়েছে। সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে আমুয়া ও বামনার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত যাতায়াতকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অফিসগামী লোকজন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ২৮ মে সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে আমুয়া বন্দর সংলগ্ন নদীর ওপর ১০৫ মিটার লম্বা সেতুটির নিচ দিয়ে একটি বালু বোঝাই কার্গো যাওয়ার সময় সেতুটির পিলারে আঘাত করে। এসময় সেতুটির পশ্চিম অংশের অন্তত ৭০ মিটার জুড়ে বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
আমুয়া শহীদ রাজা ডিগ্রী কলেজের ছাত্র হেলাল উদ্দিন জানান, তিনি এসময় সেতুটি পার হওয়ার জন্য কেবল উঠছিলেন। সেতুর নিচ দিয়ে কার্গোটি যাওয়ার সময় বিকট শব্দে সেতু নড়ে উঠলে তিনি ভয়ে দৌড়ে সেতু থেকে তীরে নেমে আসেন। মূহুর্তেই সেতুটি তিনি বিধ্বস্ত হতে দেখেন। তিনি বলেন, আমি যদি সেতুটির মাঝামাঝি স্থানে থাকতাম তাহলে আর প্রাণে বাঁচা সম্ভব হতনা। বালু বোঝাই কার্গোটি দ্রুত গতিতে সেতুর তলদেশে ধাক্কা লাগানোর কারনেই সেতুটি বিধ্বস্ত হয়েছে। কার্গো চালকের অসাবধানতার কারনেই সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
ঝালকাঠি জেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এলজিইডির অর্থায়নে ১৯৯২ সালে কাঁঠালিয়া উপজেলার সবচেয়ে বড় ব্যবসা বন্দর আমুয়া বন্দর সংলগ্ন নদীর ওপর ১০৫ মিটার লম্বা লোহার স্লিপার সেতু নির্মাণ করা হয়। পরে সেতুটি নড়বড়ে হয়ে গেলে ২০০২ সালে সেটি দ্বিতীয় দফায় মেরামত করা হয়। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরে সেতুটির কিছু সিমেন্টের স্লিপারসহ মূল কাঠামো ক্ষতি হলেও অর্থ বরাদ্দের অভাবে সেতুটি আর মেরামত করা সম্ভব হয়নি।
আমুয়া বন্দরের ব্যবসায়ী সবুজ গোলদার বলেন, ঝালকাঠির সবচেয়ে বড় ব্যবসা বন্দর আমুয়ার এই সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যাত্রী পারাপার হয়। সেতুটি এভাবে বিধ্বস্ত হওয়ায় চলাচলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে জনসাধারন। এমন অবস্থায় সেতুটি দ্রুত মেরামত অতীব জরুরী।
কাঁঠালিয়া উপজেলা এলজিইডির দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কার্গোর ধাক্কায় সেতু ধ্বসের ঘটনায় উপজেলা প্রকৌশলী আবুল হোসেন ২৮ মে সোমবার কাঁঠালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন। তবে সেতুটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য দায়ী কার্গো চালকের বিরদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।
এ ব্যাপারে ঝালকাঠী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইসমত কিবরিয়া কার্গোর ধাক্কায় সেতু ধ্বসে জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, যেহেতু সেতুটি জনগুরুত্বপূর্ণ তাই দ্রুত মেরামতের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে অবহিত করা হয়েছে।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/বরগুনা/মহো/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |