Current Bangladesh Time
Friday October ৯, ২০২৬ ১২:৫৪ AM
Barisal News
Latest News
Home » পটুয়াখালী » পটুয়াখালী সদর » পটুয়াখালীতে কাজ ছাড়াই ৯১ লাখ টাকার ‘ভূতুড়ে’ বিল, দুই প্রকৌশলীকে শোকজ
৮ October ২০২৬ Thursday ১০:১০:১৯ PM
Print this E-mail this

পটুয়াখালীতে কাজ ছাড়াই ৯১ লাখ টাকার ‘ভূতুড়ে’ বিল, দুই প্রকৌশলীকে শোকজ


পটুয়াখালী প্রতিনিধি:

পটুয়াখালী সদর উপজেলায় কাজ না করেই ঠিকাদারকে বিল দেওয়ার সুপারিশ এবং সম্পন্ন কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দুই প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাশার ও সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এলজিইডি (পটুয়াখালী)।

সম্প্রতি এলজিইডির পটুয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়ালিয়ার রহমান সই করা পৃথক নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে পত্র পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাস্তবে সম্পন্ন না হওয়া কাজের বিপরীতে দেওয়া প্রায় ৯১ লাখ টাকার বিল ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, পটুয়াখালী সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে দুই প্রকৌশলী দুটি উন্নয়ন প্যাকেজের কাজ তদারকি ও বিল প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।সংশ্লিষ্ট কাজের বিল, পরিমাপ বই (এমবি) ও প্রকল্পের নথিপত্র পর্যালোচনার পর বাস্তব কাজের সঙ্গে বিলের অসংগতি পাওয়া যায়।

নোটিশ অনুযায়ী, সিএএফডিআরআইআরপি/পটুয়াখালী/ভিআর/ইআর/ডব্লিউ-৩৫/২০২৩-২৪ প্যাকেজের আওতায় মরিচবুনিয়া চাটুয়া স্লুইস-পূর্ব মরিচবুনিয়া হয়ে উত্তর বিরাজলা কমিউনিটি স্কুল সড়কের ৫ কিলোমিটার পুনর্বাসন কাজ ছিল। 

অন্যদিকে সিএএফডিআরআইআরপি/পটুয়াখালী/ইউএনআর/ইআর/ডব্লিউ-৩৬/২০২৩-২৪ প্যাকেজের আওতায় লোহালিয়া ইউপিসি-ভূরিয়া বাজার-দারান্দি লঞ্চঘাট হয়ে মিয়ারহাট সড়কের ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং জৈনকাঠি ইউপিসি থেকে ভূরিয়া বাজার হয়ে এম. ধরান্দি কলেজ সড়কের ৭ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার পুনর্বাসন কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এলজিইডির নোটিশে বলা হয়েছে, এসব প্যাকেজের কিছু কাজ বাস্তবে বাস্তবায়িত না হলেও ‘আনস্পেসিফাইড’ কাজের খাতে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

নোটিশের তথ্য অনুযায়ী, ডব্লিউ-৩৫/২০২৩-২৪ প্যাকেজে প্রথম ও দ্বিতীয় চলতি বিল বাবদ মোট ৩ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৫২৭ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অপরদিকে ডব্লিউ-৩৬/২০২৩-২৪ প্যাকেজে প্রথম চলতি বিল বাবদ ৯৮ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪৪ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অতিরিক্ত বিলের পাশাপাশি দুটি প্যাকেজে বাস্তবে সম্পন্ন না হওয়া কাজের বিপরীতে প্রায় ৯১ লাখ টাকার ‘ভূতুড়ে বিল’ দেওয়ার অভিযোগও করেছে এলজিইডি।নোটিশে বলা হয়েছে, ডব্লিউ-৩৫/২০২৩-২৪ প্যাকেজে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা এবং ডব্লিউ-৩৬/২০২৩-২৪ প্যাকেজে প্রায় ৪৪ লাখ টাকা কাজ না করেই বিল হিসেবে দেওয়া হয়েছে।

মো. আতিকুর রহমানের নামে দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলায় উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকাকালে ওই দুটি প্যাকেজের কাজ তদারকি ও বিল প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি মির্জাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডিতে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (উপজেলা প্রকৌশলী অতিরিক্ত দায়িত্ব) হিসেবে কর্মরত।

নোটিশে সংশ্লিষ্ট বিল ও বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাস্তবায়িত কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল সুপারিশ করা হয়েছে। এতে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে কাজটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে ‘প্রতীয়মান’ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

একইভাবে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাশারের নামে দেওয়া নোটিশে বলা হয়েছে, তিনি ওই দুটি প্যাকেজের কাজ তদারকি এবং ঠিকাদারের বিল পরিশোধের জন্য সুপারিশ করেন। পরবর্তী সময়ে বিল ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনায় কাজের একটি অংশ বাস্তবায়িত না হলেও বিল পরিশোধের বিষয়টি ধরা পড়ে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এলজিইডির নোটিশে আরো বলা হয়েছে, দুটি প্যাকেজে ইচ্ছাকৃত ভুলের মাধ্যমে নিজে ও ঠিকাদারকে আর্থিকভাবে লাভবান করার জন্য যথাক্রমে প্রায় ৪৭ লাখ ও ৪৪ লাখ টাকার ‘ভূতুড়ে বিল’ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোন বিভাগীয় তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা শাস্তির তথ্য নোটিশে উল্লেখ নাই।

দুই প্রকৌশলীর কাছেই জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন ঠিকাদারকে ‘আনস্পেসিফাইড’ ও অতিরিক্ত বিলের সুপারিশ করা হয়েছে এবং ইচ্ছাকৃত ভুলের মাধ্যমে ‘ভূতুড়ে বিল’ দেওয়ার অভিযোগে তাদের কর্তব্যে অবহেলার জন্য দায়ী করে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে না।

নোটিশে সাত কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ৯১ লাখ টাকার ‘ভূতুড়ে বিল’ ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশ দুটির অনুলিপি এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন), পটুয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাশার বলেন, ‘আপনাকে কাল-এর উত্তর লিখে (হোয়াটসঅ্যাপে) পাঠাব। আর কোনো কথা না বলেই ফোন কেটে দেন তিনি।  

অন্যদিকে সাবেক উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কল রিসিভ করেননি তিনি।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া কয়েদির মৃত্যু
বরিশালে ভাড়া বাসায় হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষিকার মোবাইল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
বরিশালে সবজির বাজার চড়া, বেড়েছে মাছের দামও
শেবাচিম হাসপাতাল: পাঁচ হাজার রোগীর জন্য মাত্র ১৩টি ট্রলি
বরিশালে পঞ্চম দিনের মতো এলপি গ্যাসশূন্য
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com