মালয়েশিয়ায় গমনেচ্ছুদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ
বরগুনা :: সরকারী ভাবে জি টু জি পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় গমনেচ্ছু কর্মীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে বরগুনার বামনার ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সার্ভিস চার্জের নামে সংশ্লিষ্টরা ব্যাক্তিরা হাতিয়ে নিচ্ছেন অতিরিক্ত ফি। ফলে অনেক গরীব অসহায় গমনেচ্ছুক কর্মীরা টাকার অভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে না পাড়ায় ব্যর্থ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
গতকাল সরেজমিনে উপজেলার রামনা ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় খোলপটুয়া বাজারে গিয়ে দেখাগেছে, মালয়েশিয়ায় গমনেচ্ছু কর্মীদের রেজিস্ট্রেশন করতে ওই ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য ও সেবাকেন্দ্রের তদারকির দায়িত্বে থাকা জাহাঙ্গীর ফকির সার্ভিস চার্জের কথা বলে ১৫০ টাকা করে প্রতি গমনেচ্ছুক কর্মীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া ওই ইউনিয়ন পরিষদের বাহিরে তাদেরই কয়েকজন আস্থাভাজন ব্যাক্তি প্রত্যেকটি ফরম পুরন করতে ৩০-৪০ টাকা করে নিচ্ছেন। কেউ তাদের নির্ধারিত ফি দিতে অপারগত্ প্রকাশ করলে তাদের রেজিস্ট্রেশন করানো হচ্ছেনা বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন।
গত ১৩ জানুয়ারী রবিবার থেকে— তিন দিন ব্যাপী সরকারী ভাবে জি টু জি পদ্ধতিতে বামনা উপজেলার সকল ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রে মালয়েশিয়ায় গমনেচ্ছু কর্মীদের অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়। বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর নির্দেশনা অনুযায়ী রেজিস্ট্রেশনে ফরম পূরণ করা এবং রেজিস্ট্রেশন আইডি প্রিন্ট আউট নেওয়া সহ জেনারেটর খরচ, মোবাইল বিল ও ইন্টারনেট খরচ বাবদ ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র প্রত্যেক প্রার্থীর নিকট থেকে ৫০ টাকা সার্ভিস চার্জ নেওয়ার বিধান থাকলেও বামনা উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে ৩ নং রামনা ইউনিয়ন পরিষদ ও ৪ নং ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে মালয়েশিয়ায় গমনেচ্ছু কর্মীদের কাছ থেকে ১৮০-২০০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসি।
এব্যাপারে রেজিস্ট্রেশন করতে আসা কর্মী মো. রুহুল আমিন বলেন, গত রবিবার রামনা ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন করতে আসলে সেখানকার কর্তা ব্যক্তিরা সার্ভিস চার্জ বাবদ ১৮০ টাকা দাবী করেন। অনেক অনুরোধ করার পরেও কোন ফল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে ১৮০ টাকা দিয়ে ফরম পুরণ করে রেজিস্ট্রেশন করেছি। উপজেলার রামনা ইউনিয়নের অযোধ্যা গ্রামের মো. আলিম মিয়া বলেন, তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়টি ঊপজেলা প্রশাসন সহ সাংবাদিক ও সুশিল সমাজকে অবহিত করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর কোন প্রতিকার পাইনি। মনে হয় অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়টি সর্বজন স্বীকৃত।
এব্যাপারে ৪ নং ডৌয়াতলা ইউনিয়নের মো. আজাদ মিয়া বলেন, ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য ও সেবা কেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন বাবদ পরিচিতদের কাছ থেকে ১৮০-২০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তবে অপরিচিত কেউ হলে তাদের কাছ থেকে ২০০-৩০০ টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে দাবী করেন। এব্যাপারে ৩নং রামনা ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য ও সেবাকেন্দ্রের রেজিস্ট্রেশনে তদারকির দায়িত্বে থাকা মো. জাহাঙ্গির ফকির বলেন, রেজিস্ট্রেশন করতে নানাবিধ খরচ মেটাতে সরকারী কোন বরাদ্ধ না থাকায় ভূক্তভোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নিতে হচ্ছে।
এব্যাপারে ৪নং ডৌয়াতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইতুল ইসলাম লিটু মৃধা বলেন, অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়টি আমাদের কেউ অবহিত করেনি, কোন ভুক্তভূগী লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে আমরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এব্যাপারে বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, রেজিস্ট্রেশনে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ লোক মুখে জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সম্পাদনা: ডিভিশনাল ডেস্ক |