যৌন নিপীড়নের অভিযোগে বামনা থানার ওসি প্রত্যাহার
 মনিরুল ইসলাম চৌধুরী – ফাইল ফটো
বামনা :: নারী কেলেঙ্কারী ও যৌন হয়রানির অভিযোগে বরগুনার বামনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ১৯ আগস্ট সোমবার তাকে ক্লোজ করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। একইসাথে বামনা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুস সাত্তারকে ভারপ্রাপ্ত ওসির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানায়, ওসি মনিরুল ইসলাম চৌধুরী বামনা থানায় ২০১২ সালের ২ সেপ্টেম্বর যোগদান করার পর বেপরোয়া জীবনযাপন শুরু করেন। শহরে ঘুরতে নামলে তরুণীদের দেখলে আগ বাড়িয়ে সখ্যতা গড়ে তোলা এবং মুঠোফোনের নম্বর সংগ্রহ করে প্রেমালাপ করা ছিলো তার স্বভাব। এমনিভাবে অনেক তরুণীদেরকে ফাঁদে ফেলে সর্বনাশ করেছেন ওসি।
বামনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান সাইতুল ইসলাম লিটু জানান, আমি অনেক আগেই তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছি। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন তার কথায় কর্ণপাত করেননি। এমনকি রোববার ওসির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার সময় সে তার লোকজন দিয়ে বাধা দেয়। তিনি আরো বলেন, অনেক অসহায় তরুণীরা ওসির লালসায় পরে সর্বস্ব হারিয়েছে।
বামনা উপজেলার জাতীয় পার্টির সভাপতি ফারুক আহমেদ আকন জানান, তাকে ক্লোজ করায় বামনা থানার নারীরা এখন নির্বিঘ্নে শহরে চলাফেরা করতে পারবেন।
বামনা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান এনায়েত কবির হাওলাদার বলেন, এরকম ঘৃণ্য চরিত্রের পুলিশ অফিসার বামনাতে কখনো আসেনি। তার চলে যাওয়াতে বামনার মানুষের ভিতরে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ।
বামনা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন জানান, ওসির বিরুদ্ধে আসা নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগগুলো যদি সত্য হয়, তাহলে তাকে পুলিশ বাহিনীতে রাখা ঠিক হবেনা।
এ ব্যাপারে বরগুনার জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, প্রাথমিক তদন্ত শেষে সত্যতা পাওয়ার পর (ওসি) মনিরুলকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে আনা হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |