Home » পটুয়াখালী » বাউফল » বাউফলে পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু পথযাত্রী এক নারী
১৮ September ২০২৫ Thursday ৮:৩৬:১৫ PM
বাউফলে পল্লী চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু পথযাত্রী এক নারী
বাউফল ((পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় কাজী মাসুদ রানা নামে এক পল্লী চিকিৎসক ফাতেমা বেগম (৬০) নামের এক নারীর নাকে অস্ত্রোপচার করার কারণে মৃত্যু পথযাত্রী ওই নারী। বর্তমানে ওই নারী বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। ফাতেমা বেগম উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের বগী গ্রামের আবদুস সালাম মিয়ার স্ত্রী। পল্লী চিকিৎসক কাজী মাসুদ রানা বাউফল পৌরসভার গোলাবাড়ি সড়কে কাজী চিকিৎসা কর্ণার নামে একটি ওষুধের দোকান রয়েছে। সেখানে বসে তিনি রোগীদের চিকিৎসা দেন। ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানা গেছে, ফাতেমা বেগম নাকের ভিতর একটি ছোট টিউমার নিয়ে পল্লীচিকিৎসক মাসুদ কাজীর কাছে গেলে তিনি সেটাকে পলিপাস বলে জানান। চিকিৎসক পলিপাস চিকিৎসার জন্য ওই পরিবারের কাছে প্রথমে ১২ হাজার টাকা দাবি করেন, পরে ৭হাজার টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন। ৩১ জুলাই রোগীর পলিপাসের চিকিৎসা দিলে একদিন পর রোগী অসুস্থ বোধ করলে ২আগষ্ট রোগীকে নিয়ে আবার ওই চিকিৎসকের কাছে যান। ওই দিন তার নাকের টিউমারটি অপারেশনের মাধ্যমে কেটে ফেলেন ওই পল্লী চিকিৎসক। এসময় তার নাকের ভিতর ব্যাপক রক্তক্ষরণ হতে থাকে। এক পর্যায়ে রক্তক্ষরণ বন্ধ হলেও ওই নারীর চোখে বিভিন্ন ধরণের সমস্যা দেখা দেয়। পরের দিন আবারো পল্লী চিকিৎসক মাসুদের কাছে গেলে তিনি চোখের ডাক্তারকে দেখানোর পরামর্শ দেন। এরপর তারা স্থানীয় চোখের ডাক্তারের কাছে গেলে চিকিৎসক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানোর পরামর্শ দেন। রোগীর স্বামী আবদুস সালাম বলেন, ঢাকায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে জানিয়েছেন রোগীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ক্ষত হয়েছে এবং এতে দুই চোখও আক্রান্ত হয়েছে। যা ক্যান্সারে রুপ নিয়েছে। বর্তমানে তার স্ত্রী মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। অর্থাভাবে চিকিৎসা দিতে না পারায় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করে রেখেছেন। পল্লী চিকিৎসক কাজী মাসুদ রানা ওই নারীকে চিকিৎসার কথা স্বীকার করে বলেন, অস্ত্রোপচার করা হয়নি।ওই নারীকে হোমিও চিকিৎসার মাধ্যমে নাকের পলিপাস অপসারণ করা হয়েছে। তিনি পল্লী চিকিৎসক হয়েও হোমিও চিকিৎসা কিভাবে দিচ্ছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, দেখতে দেখতে শিখেছেন। হোমিও চিকিৎসার কোনো সনদ আছে কিনা? জানতে চাইলে তিনি নেই বলে জানান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত পল্লী চিকিৎসক মাসুদ কাজী নিজেকে ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ফ্যাকাল্টি (ডিএমএফ) দাবি করলেও তার সাইনবোর্ডে গ্রাম ডাক্তার লেখা রয়েছে। যার রেজিষ্ট্রেশন নং ঢ ০২৪৫৪ উল্লেখ করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রউফ বলেন, বুধবার রাতে ফাতেমা বেগম নামে এমন একজন রোগী ভর্তি হয়েছেন। প্রাথমিক ভাবে দেখে মনে হচ্ছে নাকে অস্ত্রোপচারের কারণেই এমনটা হয়েছে। ওই রোগীর স্বজনদের বলা হয়েছে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল নিয়ে যাওয়ার জন্য। এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, পল্লী চিকিৎসক এ ধরনের চিকিৎসা দিতে পারেন না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)