বরিশাল বিএম কলেজে হাতাহাতির ঘটনা থেকে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। এ নিয়ে আজ বুধবার ক্যাম্পাসে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ছাত্রাবাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে আজ দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিক্ষোভ করে ছাত্রদলের একাংশ। একই সময়ে ছাত্রদলের অপরাংশের নেতারা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার অভিযোগ এনে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন। এতে কলেজ ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে পুলিশের উপস্থিতি দেখা গেছে।
জানা গেছে, গত সোমবার নগরের জিয়া সড়কে কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাতুল এবং জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আল আমিন মৃধার মধ্যে আকস্মিক হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার রেশ ধরে সন্ধ্যার পর আল আমিনের নেতৃত্বে একদল কর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে অশ্বিনীকুমার হলে অতর্কিত প্রবেশ করেন। তাঁরা সেখানে রাতুলসহ হলের সাধারণ ছাত্রদের বেধড়ক মারধর করেন বলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অভিযোগ তোলেন। ওই রাতে এ নিয়ে ক্যাম্পাসে দুই পক্ষে উত্তেজনা দেখা দেয়।
এদিকে ছাত্রদল নেতাকে মারধরের প্রতিবাদে আজ দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে কলেজ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের একাংশ। মিছিলটি কলেজ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জিরো পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে সমাবেশে ছাত্রনেতারা অভিযোগ করেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক এনামুল হাসান তাসনিম এবং জেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আল আমিন মৃধার নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী বিএম কলেজ হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।
এ সময় ক্যাম্পাসে জেলা ছাত্রদলের নেতা আল আমিন মৃধার অনুসারীরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ছাত্রদল নেতা সিরাজুল ইসলাম রাতুল বলেন, ‘২২ জুন নগরীর জিয়া সড়কে হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান নামে একজনকে আল আমিন মৃধা মারধর করে। এ বিষয় আমরা জিজ্ঞেস করতে গেলে আমাদেরও মারধর করে। পরে কলেজের ভেতরে ডিগ্রি হোস্টেলের সামনে সবাইকে মারধর করা হয়।’
তবে বিএম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম জুবায়ের বলেন, ‘কলেজশিক্ষার্থী সোহানের সঙ্গে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিনের ঝামেলা হয়। সেই বিষয় নিয়ে কলেজের ভেতরে হাতাহাতি হয়। এ বিষয়ে কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ ব্যাপারে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কলেজ ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকাল থেকে ক্যাম্পাসে পুলিশ অবস্থান করে। তবে ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।’
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালের মহাফেজখানায় ঘুসের কারবার
আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মহড়া
কঠোর অবস্থানে পুলিশ ॥ মামা খোকন সহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার
জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে ঢাকা-বরিশাল চার লেন মহাসড়ক প্রকল্প