Home » ভোলা » ভোলা সদর » এমপি হতে নয়, এজেন্ট বেচতে ভোটে দাঁড়িয়েছেন ভোলার ১৭ প্রার্থী!
৪ February ২০২৬ Wednesday ১২:১৫:০৮ AM
এমপি হতে নয়, এজেন্ট বেচতে ভোটে দাঁড়িয়েছেন ভোলার ১৭ প্রার্থী!
ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার চারটি সংসদীয় আসনে মূলধারার রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নাওয়া-খাওয়া ভুলে প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোট গ্রহণের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, তাদের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। সমর্থন আদায়ে স্ত্রী, সন্তান ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে তারা ছুটছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে। অথচ নির্বাচনের প্রচারণার মাঠে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না অর্ধেকের বেশি প্রার্থীকে। ২৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে ১৭ জনই নেই ভোটের মাঠে।
ভোলার চারটি আসনে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ ১২ জন প্রার্থীকেই ঘুরেফিরে ভোটাররা কাছে পাচ্ছেন। অধিকাংশ ভোটার জানেন না বাকি প্রার্থীদের প্রতীক ও কর্মকাণ্ডের খবর। ভোটাররা কোনো দিন দেখেননি এমন প্রার্থীও রয়েছেন তাদের মধ্যে।
প্রচারবিহীন নামসর্বস্ব এসব প্রার্থী কেন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন এবং নির্বাচনে তাদের ভূমিকা কী তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়ে কোনো কোনো প্রার্থী নিজেও স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না।
জনবিচ্ছিন্ন এসব প্রার্থীর বিষয়ে ভিন্ন কথা বলছেন নির্বাচন নিয়ে কাজ করা সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর ভোলা জেলা সভাপতি মোবাশ্বির উল্যাহ চৌধুরী। তার মতে, নামসর্বস্ব দলগুলোর কার্যক্রম বাঁচিয়ে রাখা ও অন্য দলের হয়ে এজেন্ট ভাড়া দিতে কিছু প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তিনি বলেন,
বিশেষ বিশেষ দল সারা বাংলাদেশে তাদের প্রার্থী আছে বোঝাতে টাকা দিয়ে প্রার্থী দাঁড় করায়। এরা রাজনীতিও করে না, দল সম্পর্কে ধারণাও নেই। এছাড়া কিছু রাজনৈতিক দল ভোটকেন্দ্রে এজেন্ট নিয়োগ করার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করে রাখে। তারা নিজের দলের পরিবর্তে অন্য দলের হয়ে (ভাড়ায়) কাজ করে।
বিষয়টি অবাধ নির্বাচনে বাধা বলেও মনে করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার চারটি আসনের মধ্যে ভোলা-১ (সদর) আসনে ৮ জন, ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন) আসনে ৮ জন, ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে ৬ জন ও ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনে ৭ জন প্রার্থী রয়েছেন।
এদের মধ্যে ভোলা-১ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মো. ওবায়দুর রহমান ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান নির্বাচনী মাঠ সরগরম রাখলেও বাকি প্রার্থীদের কাউকে দেখা যায়নি। নির্বাচনী এলাকায় নেই তাঁদের কোনো ব্যানার বা বিলবোর্ড।
ভোলার রাজনৈতিক কোনো কর্মকাণ্ডে দেখা যায়নি এমন প্রার্থীরা হলেন, জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রার্থী মো. আকবর হোসাইন। তার নিজ এলাকার মানুষই জানেন না তার নির্বাচনী কর্মকাণ্ড। ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের চেয়ার প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আশ্রাফ আলী পেশায় মাদ্রাসা শিক্ষক। রাজনীতি বা ভোটের মাঠ কোথাও তার পরিচিতি নেই; নেই প্রচারণার মাঠেও। গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. আইনুর রহমান জুয়েল মিয়া ও সূর্যমুখী প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিজুল হোসেন কাগজপত্রে প্রার্থী হলেও মাঠে তাদের দেখা নেই।
ভোলা-১ আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আইনুর রহমান জুয়েল মিয়া প্রচারণার মাঠে না থাকার বিষয়ে বলেন, ‘আমি একা একা প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছি। এখনও কোনো ব্যানার বা লিফলেট তৈরি করিনি। প্রচার মাইকও নেই মাঠে।’
তিনি নির্বাচনী পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছেন দাবি করে বলেন, ‘পরিস্থিতি বুঝে পুরোদমে প্রচারণায় নামব।’ অন্যদিকে জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রার্থী আকবর হোসাইনকে মাঠে দেখা না মিললেও নিজের প্রচারণার বিষয়টি দাবি করেন তিনি।
ভোলা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিম ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিমের প্রচারণায় নির্বাচনী মাঠ উত্তপ্ত হলেও বাকি ৬ প্রার্থীকে দেখা যায়নি। তবে ইতোমধ্যে এলডিপি প্রার্থী মোকফার উদ্দিন চৌধুরী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ আসনে বাকি ৫ প্রার্থী হলেন জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জাহাঙ্গীর আলম রিটু, আমজনতার দলের প্রজাপতি প্রতীকের প্রার্থী মো. আলাউদ্দিন, ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাছলিমা বেগম, হাঁস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিবুল্যাহ খোকন ও মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাকির হোসেন খন্দকার।
ভোলা-২ আসনের ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাছলিমা বেগম বলেন, ‘আমি একা একা নিজের নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। জনবল না থাকায় একাই সবকিছু সামলাতে হচ্ছে।’
দৌলতখানের চর খলিফার ভোটার মজিবর রহমান বলেন, ‘কেন এরা (প্রচারবিহীন প্রার্থীরা) নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন বা কী কারণে প্রচারণা থেকে বিরত রয়েছেন, তা সাধারণ মানুষ জানে না। ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারের সমান পরিচয় নেই এমন লোক এমপি পদে নির্বাচন করছে, বিষয়টি হাস্যকর।’
ভোলা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াত জোটের বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) প্রার্থী মো. নিজামুল হক নাঈম ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা মো. মোসলেহ উদ্দিন নির্বাচনী মাঠে আছেন। প্রবীণ-নবীন এই তিন প্রার্থী দিনরাত ছুটছেন গাঁও-গ্রামে। ওই আসনের বাকি তিন প্রার্থীর ঘুম ভাঙেনি এখনও। নির্বাচনী এলাকায় তাদের নেই কোনো ব্যানার-বিলবোর্ড।
গাজারিয়া এলাকার বাসিন্দা রফিজল হকের মতে, ‘এরা নিজেদের নাম জাহির করতে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে। এলাকায় পরিচিতি নেই, এমপি হওয়ার যোগ্যতাও নেই।’ নির্বাচনের পরে মানুষ তাদের এমপি বলবে এই আশায় তারা নির্বাচন করেন বলে মন্তব্য করেন শিক্ষক আনোয়ার পারভেজ।
এ আসনে নিষ্ক্রিয় প্রার্থীরা হলেন: জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. কামাল উদ্দিন ও গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. আবু তৈয়ব।
তজুমদ্দিনের শম্ভুপুরের ভোটার জুয়েল সরকার বলেন,
কামাল উদ্দিন জাতীয় পার্টির হয়ে প্রত্যেক নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন, কিন্তু ভোটের মাঠে থাকেন না। কামাল উদ্দিনের মতো প্রার্থীরা প্রভাবশালী প্রার্থীদের কাছে এজেন্ট বিক্রি করার জন্য নির্বাচন করেন।
ভোলা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম নয়ন, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আবুল মোকাররম মো. কামাল উদ্দিন নিজেদের প্রতীক নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গেলেও বাকি ৪ প্রার্থী প্রচারণার মাঠে নিষ্ক্রিয়। নেই কোনো প্রচার-প্রচারণা।
এ আসনে প্রচারবিমুখ প্রার্থীরা হলেন: জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) সিংহ প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালাম, আমজনতার দলের প্রজাপতি প্রতীকের প্রার্থী মো. জালাল উদ্দিন রুমী ও ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। হাসানগঞ্জ গ্রামের প্রবীণ ভোটার জাহানারা জানান, ২-৩ জন ছাড়া বাকি প্রার্থীদের নাম তিনি শোনেননি। এলাকায় তাদের কোনো পরিচিতি নেই, নির্বাচনী মাঠেও তাঁদের নিয়ে আলোচনা নেই। ভোটের আগেই সবাই বুঝে গেছে এরা নামমাত্র প্রার্থী, প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দাঁড়াননি।
ঢিলেঢালা প্রচারণার বিষয়ে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) ভোলা জেলার আহ্বায়ক মো. শাহজাহান মিয়ার ভাষ্য, অসুস্থতার কারণে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে প্রার্থীরা নিজেদের মতো করে প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে দাবি তার।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বগায় ‘স্বপ্নের সেতু’ নির্মাণ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গিয়ে অবরুদ্ধ সেতুমন্ত্রী
হামের চাপে শেবাচিম ও জেনারেল হাসপাতাল, রোগী ধরে রাখতে পারছে না উপজেলা হাসপাতাল
ফ্যামিলি কার্ডের টাকায় নারীর ক্ষমতায়ন তৈরি হবে :গৌরনদীতে তথ্যমন্ত্রী
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: ১৫ বছরে ৭ উপাচার্য, চারজনকেই অপসারণ
বরিশালে বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষ