Current Bangladesh Time
Thursday June ২৫, ২০২৬ ১:৫১ AM
Barisal News
Latest News
Home » বরিশাল » সংবাদ শিরোনাম » টাকা না দিলেই পুলিশের মামলা হয়রানি:বরিশালের সড়কে কোটি টাকার বিট বাণিজ্য
১৩ April ২০২৬ Monday ৩:০১:৫৪ PM
Print this E-mail this

টাকা না দিলেই পুলিশের মামলা হয়রানি:বরিশালের সড়কে কোটি টাকার বিট বাণিজ্য


অনলাইন নিউজ ডেস্ক:

বরিশালে আবার শুরু হয়েছে ট্রাফিক পুলিশের মাসোয়ারা নামে বেপরোয়া বিট বাণিজ্য। মাঝে প্রায় ২০ মাস বন্ধ থাকার পর শুরু হওয়া এই বাণিজ্যে বিভিন্ন শ্রেণির পরিবহণ মালিকদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে লাখ লাখ টাকা। নগরে চলাচলকারী থ্রি হুইলার থেকে শুরু করে রেন্ট এ কারে চলা গাড়ি, আন্তঃজেলা বাস আর পণ্য পরিবহণের ট্রাক-পিকআপ, কেউ রেহাই পাচ্ছে না এই মাসোয়ারা থেকে। বিনিময়ে একদিকে যেমন সড়ক-মহাসড়কে অবাধে চলার সুযোগ পাচ্ছে কাগজপত্রবিহীন অবৈধ যানবাহন, তেমনি পুরো পরিবহণ সেক্টরে দেখা দিয়েছে চরম নৈরাজ্য। টাকা দেওয়ার বিনিময়ে নির্দিষ্ট সংকেত বা মোবাইল ফোনের যোগাযোগে পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে তারা। টাকা না দিলে হতে হচ্ছে মামলা হয়রানির শিকার।

এক হিসাবে দেখা গেছে, মাসোয়ারা পদ্ধতিতে ট্রাফিক পুলিশের নামে প্রতিমাসে তোলা হচ্ছে প্রায় ২৩ লাখ টাকা। বছর শেষে যার পরিমাণ দাঁড়ায় পৌনে ৩ কোটি। যদিও এভাবে মাসোয়ারা তোলার বিষয়টি স্বীকার করেননি ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা জানাতে ও অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার মো. শরফুদ্দীন।

সড়ক-মহাসড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে বহু বছর ধরেই মাসিক ভিত্তিতে টাকা দিতে হতো যানবাহনের মালিকদের। স্থানীয়ভাবে যা পরিচিত পুলিশ ‘বিট’ হিসাবে। ৫ আগস্টের পর দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকা এই বিট আবার চালু হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের নামে মার্চ থেকে উঠানো হচ্ছে টাকা। বিনিময়ে দেয়া হয় পুলিশি হয়রানি ছাড়াই সড়ক-মহাসড়কে চলাচলের নিশ্চয়তা। যদিও এরকম কোনো বিট বা মাসিক ভিত্তিতে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে না বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। এই দপ্তরের টিআই (প্রশাসন) এখলাসুর রহমান বলেন, কে বা কারা কিভাবে টাকা উঠায় কিছুই জানি না। তবে এটা বলতে পারি যে, ট্রাফিকের কোনো কর্মকর্তা টাকা নেন না। এখলাসের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বেশ কয়েকজন পরিবহণ মালিক বলেন, পুলিশ আমাদের কাছ থেকে সরাসরি টাকা নেয় না ঠিক। তবে আমরা আমাদের সংগঠনের লাইন সম্পাদক কিংবা নির্দিষ্ট লোকের মাধ্যমে তা পৌঁছে দেই। 

নগরীর পোর্ট রোড এলাকার এক ব্যবসায়ী বলেন, আড়তের নিজস্ব মালামাল পরিবহণের জন্য আমার একটি পিকআপ আছে। এই পিকআপের বিনিময়ে ট্রাফিক পুলিশের জন্য মাসে ৫শ টাকা দেই আমি। এতে কোনো লাভ হয় কিনা জানতে চাইলে ওই ব্যবসায়ী বলেন, রাস্তায় মাঝেমধ্যে সার্জেন্টরা ধরে। নির্দিষ্ট লোকের কথা বলানো হলে ছেড়ে দেন তারা। 

পরিচয় না প্রকাশের শর্তে একজন ট্রাকচালক বলেন, সারা দেশে চলাচলের ক্ষেত্রে মাসে এখন ১৫শ করে টাকা দিতে হয়। বরিশালের মালিক হলে স্থানীয় ট্রাফিক বিভাগের জন্য আলাদা আরও বেশি দিতে হয় ৫শ টাকা। আমি অবশ্য বলি যে, আমার মালিক ঢাকার বাসিন্দা। তাই বাড়তি ৫শ টাকা দিতে হয় না। এই ১৫শ টাকার বিনিময়ে ৩টি এলাকা বাদে সারা দেশে চলতে পারি নির্বিঘ্নে। পথে সার্জেন্ট ধরলে যিনি টাকা নেন তাকে ধরিয়ে দেই ফোনে। তারপর আর সমস্যা থাকে না। কোন ৩টি জায়গায় সমস্যা জানতে চাইলে তিনি বলেন, জামালপুর-ঝালকাঠি আর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ইটাখোলা। এই ৩ জায়গা প্রশ্নে গাড়ির কাগজপত্র শতকরা ১শ ভাগ ঠিক থাকতে হয়। নইলে তারা মামলা দিয়ে দেয়। বরিশালে থাকা প্রায় ৩শ ট্রাকের মালিককে এভাবে টাকা দিতে হয় বলে জানান এই চালক। স্থানীয় একজন রেন্ট এ কার মালিক বলেন, দুটি পদ্ধতিতে টাকা দিতে হয়। পুলিশি হয়রানি ছাড়া সারা দেশে চলার ক্ষেত্রে গাড়িপ্রতি মাসে দিতে হয় ২ হাজার টাকা। বরিশালে দিলেই নিরাপদ হয়ে যায় বাকি ৬৩ জেলা। এছাড়া আরও একটি পদ্ধতি আছে। বরিশালের যেসব ভাড়ার গাড়ি দূরে কোথাও যায় না তারা মাসে ১২শ টাকা দেওয়ার বিনিময়ে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা আর পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর-শরীয়তপুর জেলায় চলতে পারে। এছাড়া যেসব প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাসের কাগজপত্র ঠিক নেই তারা মাসে ২ হাজার টাকা দিলে চলতে পারে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায়। তবে বিভাগের বাইরে যাওয়ার অনুমতি পায় না। 

মাসোয়ারা বা বিট বাণিজ্যের একটি বড় টাকা আসে দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাসগুলোর কাছ থেকে। অভ্যন্তরীণ রুটের বাসগুলোকে অবশ্য দিতে হয় না কোনো টাকা। বরিশাল নগরীতে থাকা দুটি টার্মিনাল থেকে অভ্যন্তরীণ নানা রুটে চলাচল করে এই বাসগুলো। দূরপাল্লার রুটে চলা বাসের স্থানীয় যে ২-৩ জন মালিক আছেন তাদের কাছ থেকেও নিয়মিত ভিত্তিতে টাকা খুব একটা নেন না বিট বাণিজ্যের হোতারা। তবে বরিশালের ওপর দিয়ে চলাচলকারী অন্য এলাকার মালিকদের বাসগুলো থেকে ঠিকই নেওয়া হয় মাসোয়ারা। আন্তঃজেলা বাসের কাউন্টার ইনচার্জ বলেন, নথুল্লাবাদ টার্মিনাল হয়ে আমাদের ৭টি বাস চলাচল করে। এই ৭টি গাড়ির বিনিময়ে মাসে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দিতে হয়। মাঝে ১৮-২০ মাস এই টাকা নেয়নি কেউ। মার্চ থেকে আবার শুরু হয়েছে। টাকা না দিলেই চেক করার নামে সড়কে বাস আটকে হয়রানি করে পুলিশ। প্রতিমাসে গড়ে সাড়ে ৫শর বেশি বাস থেকে এভাবে নেওয়া হয় টাকা। বৈধ কাগজপত্র না থাকা এক মাহিন্দ্রাচালক বলেন, বরিশালের আশপাশে এরকম ৭০-৮০টি থ্রিহুইলার মাহিন্দ্রা রয়েছে যেগুলোর বৈধতা নেই। চলাচলের বিনিময়ে এগুলোকে মাসে ১ হাজার টাকা করে দিতে হয়। এছাড়া পুলিশের টহলের জন্য রিকুইজিশন যাতে না করা হয় সেজন্যে মাসে ১ হাজার টাকা করে দেন অনেক থ্রিহুইলার মালিক। ব্যাটারিচালিত মোটা চাকার নিচু রিকশা থেকেও মাসে হাজার টাকা করে বিট নেওয়া হয় ট্রাফিক পুলিশের নামে। তবে হলুদ অটো কিংবা ব্যাটারি রিকশার কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। 

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার মো. শরফুদ্দিন বলেন, মাসোয়ারা বা বিট বাণিজ্য নিয়ে আমার কাছে কখনো কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। আমার কোন কোন কর্মকর্তা টাকা নেন তার প্রমাণ দিন। আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেব।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালের মহাফেজখানায় ঘুসের কারবার
আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মহড়া
কঠোর অবস্থানে পুলিশ ॥ মামা খোকন সহ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ’লীগের শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার
জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে ঢাকা-বরিশাল চার লেন মহাসড়ক প্রকল্প
সাইবার বুলিংয়ের শিকার বরিশালের দুই-তৃতীয়াংশ তরুণী
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com