বরিশাল বিভাগে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পদ শূন্য রয়েছে। ফলে কিছু কিছু এলাকায় তীব্র জনবল সংকটের কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজেও গতি কমে গেছে।
তথ অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ৬ হাজার ২৪৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭ লাখ ২৭ হাজার ৪৮৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।এসব বিদ্যালয় মনিটরিংয়ের জন্য রয়েছে ৬টি জেলা এবং ৪২টি উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা অফিস। এ অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শিক্ষা অফিস মিলিয়ে কর্মকর্তা, শিক্ষক ও কর্মচারীদের মোট অনুমোদিত পদসংখ্যা ৩৮ হাজার ৯৫৩টি।এর মধ্যে কর্মরত আছেন ৩২ হাজার ৫০৪ জন; শূন্যপদের সংখ্যা ৬ হাজার ৪৪৯টি।
শূন্যপদের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সংকট শিক্ষক পদে।পরীক্ষণ বিদ্যালয়, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের ৩৭ হাজার ৯৭৮ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩২ হাজার ৬৯ জন; শূন্যপদের সংখ্যা ৪ হাজার ৮৯২টি।
অপরদিকে পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের অনুমোদিত ৩০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৮ জন; শূন্য রয়েছে ১২টি পদ। অর্থাৎ পরীক্ষণ বিদ্যালয়ের শিক্ষকের মোট পদের ৪০ শতাংশই শূন্য।
প্রধান শিক্ষক পদে ৬ হাজার ২৪১ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২ হাজার ৯৯৯ জন; শূন্যপদের সংখ্যা ২ হাজার ২৪২টি। প্রধান শিক্ষক পদের প্রায় ৩৫.৭ শতাংশ শূন্য রয়েছে।
একইভাবে সহকারী শিক্ষক পদে ৩১ হাজার ৭০৭ পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৯ হাজার ৫২ জন; শূন্যপদের সংখ্যা ২ হাজার ৬৫৫টি। আবার মোট হিসাবের মধ্যে ১ হাজার ১৭ জন সহকারী শিক্ষক ‘চলতি দায়িত্ব’ হিসেবে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ৬টি জেলা এবং ৪২টি শিক্ষা অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোট ১ হাজার ৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৫৩ জন; শূন্যপদের সংখ্যা ৫৫২টি।
হিসাব বলছে, উপজেলা ও থানা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের ২৫১টি পদের মধ্যে ১৩৫টি শূন্য। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের ৬টি পদের মধ্যে ১টি শূন্য রয়েছে। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের ১২টি পদের মধ্যে ৪টি খালি। সহকারী মনিটরিং অফিসারের ৬টি পদের মধ্যে ৩টি শূন্য। সহকারী ইনস্ট্রাক্টর (রিসোর্স সেন্টার) পদে ৪১টির মধ্যে ৩৯টি পদ খালি, যা প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
এছাড়া প্রশিক্ষণ ও বিশেষায়িত শিক্ষার ক্ষেত্রেও সংকট তীব্র। সাধারণ ইনস্ট্রাক্টর পদের ৭০টির মধ্যে ৩৪টি শূন্য। বিজ্ঞান ও চারু-কারু ইনস্ট্রাক্টর পদের প্রতিটিতেই সবগুলো পদই শূন্য। কৃষি ও শারীরিক শিক্ষা ইনস্ট্রাক্টর পদের ৫টির মধ্যে ৪টি করে শূন্য রয়েছে। কম্পিউটার সায়েন্স ইনস্ট্রাক্টরের ৫টির মধ্যে ৩টি পদ খালি। ফলে প্রায় সব শাখাতেই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
অফিস সহায়ক ও প্রশাসনিক সহায়তামূলক পদেও একই চিত্র দেখা গেছে। অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদের ১১৮টির মধ্যে ৮৯টি শূন্য। অফিস সহায়ক পদের ১১১টির মধ্যে ৯৭টি খালি। ক্যাশিয়ারের ৭টি পদের সবগুলোই শূন্য। হিসাব সহকারীর ৪১টির মধ্যে ২৬টি এবং ডাটা এন্ট্রি অপারেটরের ৪২টির মধ্যে ২২টি পদ খালি। ড্রাইভারের ৮টির মধ্যে ৭টি পদ শূন্য। এছাড়া মালি ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ৬টি করে পদের সবগুলোই শূন্য।
বরিশাল সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, শূন্যপদের প্রভাব পড়ছে শিক্ষাব্যবস্থায়। বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে এর প্রভাব বেশি। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে। প্রশাসনিক কাজেও গতি কমেছে। দ্রুত এই সংকট সমাধানের দাবি জানান তিনি।
প্রাথমিক শিক্ষার বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, জনবল সংকটে কাজের গতিশীলতা কমে যায়। শূন্যপদগুলো পূরণে কর্তৃপক্ষ সচেতন রয়েছে। তবে নিয়োগসংক্রান্ত মামলা থাকায় শূন্যপদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালে প্রাথমিকের সাড়ে ৬ হাজার পদ শূন্য
আ.লীগের সাবেক এমপির সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ
মঞ্চ সাজিয়েও উদ্বোধনী দিনে বন্ধ হলো বাণিজ্য মেলা
কর্মস্থলে অনুপস্থিত, নৌ প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্ট্যান্ড রিলিজ
আগামী ৬ জুন শেবাচিমে চালু হবে হেমাটোলজি ডে কেয়ার ইউনিট