Home » পটুয়াখালী » বাউফল » পদ টেকাতে কমিটি দখল: থার্ড ক্লাসে পাশ অধ্যক্ষে চলছে ডিগ্রি কলেজ
৭ September ২০২৬ Monday ১২:৫৫:১৪ PM
পদ টেকাতে কমিটি দখল: থার্ড ক্লাসে পাশ অধ্যক্ষে চলছে ডিগ্রি কলেজ
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
থার্ড ক্লাসে পাশ করা এক শিক্ষকের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে চলছে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া আবদুর রশিদ মিয়া ডিগ্রি কলেজ। এসএম কবির হোসেন নামের ওই শিক্ষক ইনডেক্সধারী না হয়েও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদ দখল করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার আগের নিয়োগ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। অধ্যক্ষের পদ টিকিয়ে রাখতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে গভর্নিং বডি গঠনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া কলেজের আয় ব্যাংকে জমা না দেওয়া, ভুয়া ভাউচারে অর্থ ব্যয় এবং শিক্ষকদের বেতন-ভাতা আটকে রাখার অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুর রশিদ চুন্নু মিয়া ১৯৯৫ সালে নিজের নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। তার ছেলে এস এম কবির হোসেনকে ২০০২ সালে কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ তখন কলেজটি ছিল উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের। ২০০৪ সালে কলেজটি ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত হয়। অভিযোগ রয়েছে, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে উপাধ্যক্ষের পদ না থাকলেও কবির হোসেনকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের সময় সভাপতি ছিলেন তার বাবা আবদুর রশিদ চুন্নু মিয়া।
তার নিয়োগের সময় নিয়োগ বোর্ডে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। কলেজের নথিপত্রে তার নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফলে ২৭ নম্বর এবং রেজুলেশনে ২৫ নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। এতে অসঙ্গতি রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এছাড়া তার নামে দুটি যোগদানপত্র পাওয়া গেছে। একটিতে নিজের হাতে লেখা যোগদানের তারিখ ২০০২ সালের ১৯ অক্টোবর। অন্যটিতে ২০০৩ সালের ১০ জানুয়ারি। দ্বিতীয় যোগদানপত্রটি কলেজের একজন শিক্ষক লিখেছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। তাদের দাবি, ২০০২ সালে কলেজটি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে থাকায় প্রথম যোগদানপত্রে উল্লেখিত পদ কার্যকর না হওয়ায় দ্বিতীয়টি তৈরি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ২০০১ সালের আইনে ছিল শিক্ষাজীবনের কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শিক্ষকতা পেশায় আসতে পারবে না। তাই কবির হোসেনের নিয়োগের সময় শিক্ষক নিয়োগে কোনো পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ গ্রহণযোগ্য ছিল না। অথচ তিনি ১৯৯১ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তার নিয়োগ বাতিলের জন্য গভর্নিং বডির সভাপতির কাছে আবেদন করা হয়। ২০০৯, ২০১২ ও ২০১৫ সালে তার উপাধ্যক্ষ নিয়োগের কাগজপত্র চেয়ে একাধিকবার চিঠি দেয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু তিনি কাগজপত্র দিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে ২০১৬ সালে গভর্নিং বডির এক সভায় তার উপাধ্যক্ষ পদের নিয়োগ বাতিল করা হয় বলে কলেজসংশ্লিষ্টরা জানান। নিয়োগ যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় তাকে এমপিওভুক্ত করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার সময়ে নিয়োগ পাওয়া অন্যরা বেতন-ভাতা পেলেও তিনি কোনোদিন তা পাননি।
তাদের দাবি, ওই সিদ্ধান্তের পর কবির হোসেন কলেজের শিক্ষক হিসাবে ছিলেন না। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি ফের কলেজের নিয়ন্ত্রণ নেন। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলামকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় মব সৃষ্টি করে শহিদুল ইসলামকে এলাকাছাড়া করার অভিযোগও রয়েছে কবিরের বিরুদ্ধে। শহিদুল ইসলাম এলাকা ছাড়ার পর কবির হোসেন নিজেই অধ্যক্ষের চেয়ারে বসেন বলে অভিযোগ।
অধ্যক্ষের পদ টিকিয়ে রাখতে তিনি পরিবারের ৮ সদস্যকে নিয়ে গভর্নিং বডি গঠন করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এস এম কবির হোসেন। তিনি বলেন, আমার নিয়োগ বিধি মেনে বৈধভাবে হয়েছে। মাউশির নিয়মানুযায়ী যোগ্যতা অর্জন করায় বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্বে আছি। আমাকে নিয়ে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালের নদ-নদীতে ইলিশের দেখা, মা মাছ নিয়ে শঙ্কা