Home » বরিশাল » হিজলা » হিজলায় বেওয়ারিশ কুকুর উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি
১ October ২০২৬ Thursday ৮:৩৮:৪৯ PM
হিজলায় বেওয়ারিশ কুকুর উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি
মোঃ আলহাজঃ বরিশালের হিজলা উপজেলার হাটবাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশপাশে বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা এবং উপদ্রব উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।এতে আতঙ্ক বাড়ছে স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের মাঝে।জানা যায়,উপজেলা সদর বা তার আশেপাশের এলাকা,হিজলা সরকারি ডিগ্রি কলেজ,উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রোড, দূর্গাপুর বাজার,মৌলভীর হাট,খুন্না বাজার, খুন্না বাজারস্থ থানা গেটের সামনের রাস্তায়,গোলের হাট সংলগ্ন হিজলা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে,হরিনাথপুর বাজার এবং লঞ্চ ঘাট, কাউরিয়া বাজার,স্কুল কলেজসহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, এমন কোনো স্থান নেই যে, এই বেওয়ারিশ কুকুরগুলোকে দেখা যায় না। কোথাও কোথাও এক সঙ্গে ১০/১৫ টি কুকুর দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে।শিশু থেকে সাধারণ মানুষ এবং যানবাহনের চলাচলের মারাত্মক অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়ায় এই বেওয়ারিশ কুকুর।অনেক সময় ওই কুকুরগুলোর কারণে রাস্তায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।এতে মানুষের অনেক মূল্যবান কর্মঘন্টা নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে স্কুল,মাদ্রাসা ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনই আতঙ্ক নিয়ে যাতায়াত করতে হয়।এমনকি গৃহপালিত প্রাণীও রক্ষা পায় না কুকুর থেকে কয়েক দিন আগে মোহাম্মদ আলী নামে এক খামারির কয়েকটি ছাগল কামড়িয়েছে দলবদ্ধ কুকুর।বেওয়ারিশ কুকুর দেখে ভয় পায় না এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম।কাউরিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থী রবিউল বলেন,বেওয়ারিশ কুকুর দলবদ্ধভাবে আমাকে মারাত্মক আক্রমণ করে যা সুস্থ হতে অনেক সময় লেগেছিল।শরীরে ক্ষতচিহ্ন এখনো আছে,মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে দেখাযায় একসঙ্গে ১০/১৫ টি কুকুর দলবদ্ধ হয়ে চলাফেরা করে দেখলেই ভয় লাগে। অভিভাবক মোঃ সুমন দপ্তরী বলেন,ছেলেকে স্কুলে এবং ভোরে মকতবে পাঠালেই টেনশনে থাকতে হয়। কুকুরে কামড়ালে তেমন ভ্যাকসিন ও পাওয়া যায় না বাধ্য হয়ে যদি বরিশাল যেতে হয় এতে আর্থিক ও মানসিক ভোগান্তি বাড়ে।অভিভাবক লিজা বেগম বলেন,রাস্তায় এত কুকুরের আনাগোনা যেকোনো সময় কামড়াতে পারে।কয়েক দিন আগে স্কুল থেকে আসার পথে আমার শিশু ছেলে কুকুরের ভয়ে অন্য বাড়িতে গিয়ে ফোন করার পরে নিয়ে আসতে হয়েছে। বর্তমানে কুকুর আতঙ্কে আছি। শিক্ষক বরুণ কুমার বলেন,আমাদের স্কুলের সামনে শিক্ষার্থীদের উপর কুকুরের আক্রমণের ঘটনা ঘটেছিল। তিনি আরও বলেন,এখনই পদক্ষেপ না নিলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।অনেক মুসল্লি অভিযোগ করে বলেন,এশা ও ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার সময় খুব ভয় লাগে।৫ম শ্রেণির ছাত্রী জোহা জানায়, স্কুল ছুটির পরে কুকুর আতঙ্কে একজনের সহায়তায় সে বাড়ি পৌঁছায়। কিছু দিন আগে নানু বাড়িতে যাওয়ার পথে বেওয়ারিশ কুকুর তাকে আক্রমণ করেছিল।সচেতন মহলের ধারণা কুকুর নিধন বন্ধ থাকার কারণে,কার্যকর বন্ধ্যাকরণ ও ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচির অভাবে এই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প.কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত)ডাক্তার মনিবুর রহমান জুয়েল জানান, হাসপাতালে কুকুরে কামড় ও বিড়ালের আচঁড়ের(জলাতঙ্কের)ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকলেও রোগী বেশি হওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবে দুপুর ১ টার পরে রোগীদেরকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, কুকুরে কামড়ানো অনেক গরু ছাগল হাসপাতালে নিয়ে আসে কিন্তু সরকারি কোন বরাদ্দ না থাকায় জলাতঙ্কের টিকা দিতে পারি না।খামারিরা বাহির থেকে কিনে আনলে তখন তাদের আক্রান্ত পশুকে দিতে পারি এতে অনেক বিপাকে পড়তে হয়। ভবিষ্যতে বেওয়ারিশ কুকুর নিধনের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)