Home » পটুয়াখালী » বাউফল » ইলিশের মৌসুম শেষে হিসাবের খাতায় দেনা বাউফলে জেলেরা
৮ October ২০২৬ Thursday ১২:৫০:২০ PM
ইলিশের মৌসুম শেষে হিসাবের খাতায় দেনা বাউফলে জেলেরা
বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা:
দেশের অন্যতম প্রধান ইলিশ অভয়াশ্রম কেন্দ্র তেঁতুলিয়া নদীতে গত কয়েক বছর ধরে আশঙ্কাজনক হারে কমছে ইলিশ আনাগোনা। এবছরও কাক্সিক্ষত মাছ না পাওয়ায় দুশ্চিন্তা-হতাশার মধ্যেই শেষ হয়েছে মৌসুম। মৌসুম শেষে হিসেবের খাতায় দাদন ও ঋণ বাড়ছে জেলেদের। ঋণের টাকা পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলেরা। অপরদিকে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী ইলিশ চড়া দামের কারণে বেশির ভাগ মানুষের পাতে পরেনি ইলিশ। ফলে ক্রেতারা যেমন ক্ষুব্ধ, তেমনি আশানুরুপ লাভবান হতে পারেনি ইলিশ ব্যবসায়ীরা। উপজেলা মৎস কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলায় উপকার ভোগী জেলেদের সংখ্যা ৪হাজার ৭৯৬ জন। ৮ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে শুরু হয়েছে ইলিশ প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে ইলিশ শিকার, পরিবহন, মজুদ, কেনা বেচা সম্পূর্ণ নিষেধ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে রয়েছে জেল জরিমানার বিধান। মৎস্য ব্যবসায়ী ও জেলেরা জানান, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টম্বর ইলিশের মৌসুম। জেলেরা সারা বছর ধরে এ মৌসুমের অপেক্ষায় থাকে। এ সময় তেঁতুলিয়া নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ে। তবে কয়েক বছর ধরে তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ মাছ কমে গেছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে-এ চলতি মৌসুমে গত মৌসুমের ১০ ভাগের এক ভাগ মাছ জেলেদের জালে ধারার পড়েছে। উপজেলার কালাইয়া বন্দর লঞ্চঘাটের সততা মৎস আড়তের স্বত্বাধিকারী মিন্টু হাওলাদার, গতবছর প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ মণ ইলিশ আড়তে আমদানি হতো। চলতি মৌসুমে প্রতিদিন ২ মন মাছ আড়তে আমদানি হয়নি। জেলেরা জানান, আগস্ট ও সেপ্টম্বরে নি¤œচাপের কারণে সাগর উত্তাল থাকায় তারা আশানুরুপ ইলিশ শিকার করতে পারেনি। একাধিক সাগরে গিয়েও অনেক জেলে খালি হাতে ফিরে এসেছেন। অপরদিকে ইলিশের অন্যতম প্রধান আভাশ্রম তেঁতুলিয়া নদীতে তেমন মাছ না থাকায় হতাশ ছোট ও মাঝারি জেলেরা। মৌসুমের শুরুর দিকে আহরণ করা ইলিশ সাইজ ছোট হওয়ায় তেমন দাম না পাওয়ার কারণে প্রত্যাশিত লাভের মুখ দেখতে পারেনি জেলেরা। উপজেলার চন্দ্রদ্বীপের জেলে মাহবুব বেপাড়ি বলেন, দিনদিন তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশ মাছের পরিমাণ কমছে। এ বছর মৌসুম জুড়েই ছিল ইলিশের আকাল। কাক্সিক্ষত ইলিশ না পাওয়ায় মৌসুমে শেষে ঋণ বাড়ছে। মাহবুব বলেন, আড়তদারের কাছ থেকে ১ লাখ দাদন ও এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা লোন নিয়েছি। মৌসুমে ইলিশ বিক্রি করে পরিশোধ করার কথা ছিল। তবে মৌসুম শেষে হিসাবে দেনা বাড়ছে। কিভাবে এ দেনা পরিশোধ করব, তার কোনো উপায় দেখছি না। চরঅডেল এলকার জেলে বাবুল বেপাড়ি বলেন, তিনি সাগরে মাছ শিকার করেন। তার ট্রলারে ছয়জন জেলে রয়েছে। এবছর তিনি চারবার সাগরে গিয়েছেন। প্রতিবার ৯০ হাজার থেকে ১লাখ টাকা খরচ হয়েছে। দুইবার খরচের টাকা উঠলেও বাকি দুইবার তার লোকশান হয়েছে। তিনি বলেন, এ বছর সাগরে ও নদীতে মাছ ধরার খরচ বাবদ আড়তদারের কাছ থেকে ৪ লাখ দাদন নিয়েছি। ব্যাংক লোনও আছে ৮০ হাজার। যা মাছ পেয়েছি তা বিক্রি করে খারচ দিয়ে সমানসমান। ঋণের বোঝা মাথাই রয়ে গেছে। একই কথা জানান জেলে মোকলেছ মাঝি, সুজন দফাদার, এছাহাক মাঝি ও কুদ্দুস বয়াতি। তাদের ভাষ্য, বছর শেষে আমাদের ঋণ রয়েই গেছে। এখন শুরু হবে মা ইলিশ রক্ষার ৪০ দিনের অবরোধ, তারপর জাটকা রক্ষায় ২৪০ দিন ও সাগরে ৬৫দিন। বছর জুড়েই চলবে অবরোধ। এসময় কিভাবে সংসার চলবে এবং এনজিওর কিস্তি দিবে তা নিয়ে হতাশ এসব জেলেরা। ইলিশের অন্যতম প্রধান অভয়াশ্রম তেঁতুলিয়া নদীতে কয়েক বছর ধরে ইলিশ মাছ কমতে থাকায় উদ্বেগ জানিয়েছেন জেলে, ব্যবসায়ীরা। জাটকা মৌসুমে নির্বিচারে জাটকা নিধন করায় নদীতে ইলিশ কমছে বলে দাবি করেছেন জেলেরা। জেলেরা জানান, সাগর মোহনা থেকে শুরু করে নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট বাধাজাল দিয়ে ইলিশের ডিম, চাপিলা ও জাটকা মাছ ধ্বংস করা হয়। যার কারণে মৌসুমে ইলিশের আকাল দেখা দেয়। ভরা মৌসুমে নদীতে ইলিশ না মেলার বিষয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল হক বলেন, সাগর মোহনায় ডুবোচরের বিষয় নিয়ে আমরাও ভাবছি। ইলিশ যখন মাইগ্রেড করে সাগর থেকে নদীতে আসে, তখন তার একটি নির্দিষ্ট গভীরতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু সাগর থেকে নদীতে ঢুকতে মোহনায় যখন পর্যাপ্ত গভীরতা পায় না, তখন তারা আবার সাগরে ফিরে যায়। এটা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে ড্রেজিং। অপর দিকে অবৈধ জাল বিস্তাররোধে সরকারকে আরো নজরদারি বাড়াতে হবে। এবিষয়ে বাউফল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ বলেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল ভাবে সম্পন্ন করতে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলের অবরোধকালীন কেউ মাছ শিকারের জন্য নদীতে নামলে কঠোর হাতে দমন করা হবে। শতভাগ মা ইলিশ রক্ষা করা সম্ভব হলেই ইলিশ বাড়বে বলে মন্তব্য করেন এ কর্মকর্তা।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালে ফাঁসির দণ্ড পাওয়া কয়েদির মৃত্যু
বরিশালে ভাড়া বাসায় হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষিকার মোবাইল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২
বরিশালে সবজির বাজার চড়া, বেড়েছে মাছের দামও
শেবাচিম হাসপাতাল: পাঁচ হাজার রোগীর জন্য মাত্র ১৩টি ট্রলি