Home » দশমিনা » পটুয়াখালী » নিষেধাজ্ঞার ২০ দিনেও চাল পাননি দশমিনার ৪৮৪০ জেলে
২৭ October ২০২৬ Tuesday ৬:৫২:২৭ PM
নিষেধাজ্ঞার ২০ দিনেও চাল পাননি দশমিনার ৪৮৪০ জেলে
দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় মা ইলিশ সংরক্ষণে নিষেধাজ্ঞার ২০ দিন পার হলেও সরকারি সহায়তার চাল পাননি ৪ হাজার ৮৪০ জন জেলে। উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটিতে চাল বিতরণ করা হলেও রণগোপালদী ও দশমিনা ইউনিয়নের জেলেরা এখনো চাল পাননি।
ঘোষণা অনুযায়ী, ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা, আহরণ, পরিবহন, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ। এ সময়ে জেলেদের সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা। কিন্তু রণগোপালদী ইউনিয়নের ২ হাজার ৫৯০ জন এবং দশমিনা ইউনিয়নের ২ হাজার ২৫০ জন জেলে এখনো চাল পাননি।
জেলেদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় চাল বিতরণে বিলম্ব হচ্ছে। জেলে নন এমন ব্যক্তি এবং জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয়স্বজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েও চাল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরছেন তাঁরা। নিষেধাজ্ঞার সময় মাছ ধরতে না পারায় পরিবার নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটছে বলে জানান জেলেরা।
দশমিনা ইউনিয়নের জেলে মো. কাশেম, কাওসার ও ইউনুস জানান, ‘অন্য কয়েকটি ইউনিয়নে আগেই চাল বিতরণ করা হয়েছে। তাঁদের ইউনিয়নে তালিকা যাচাই-বাছাইয়ের কথা বলে সময় পার করা হচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও চাল পাননি তাঁরা।’
রণগোপালদী ইউনিয়নের জেলে মো. সান্টু, জিসান ও জুয়েল জানান, নিষেধাজ্ঞার ২০ দিন পার হলেও চাল পাননি তাঁরা। তালিকা চূড়ান্ত করার কথা বলে বারবার ঘোরানো হচ্ছে। আদৌ চাল পাবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
রণগোপালদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অলিউল ইসলাম রুবেল বলেন, ‘প্রকৃত জেলেদের যাচাই-বাছাই করতে সময় লেগেছে। চূড়ান্ত তালিকা ইউপি সদস্যদের দেওয়া হয়েছে। আজ চাল দেওয়ার কথা থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। আগামী বৃহস্পতিবার বিতরণ করা হতে পারে।’
দশমিনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, ‘প্রকৃত জেলেদের নাম যেন বাদ না পড়ে, তাই যাচাই-বাছাই করে তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২৯ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে।’
উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই প্রতিটি ইউনিয়নে চালের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিতরণে বিলম্বের কারণ তাঁর জানা নেই। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাবেন।
দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, ‘দ্রুত চাল বিতরণের জন্য চেয়ারম্যানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যেই চাল বিতরণ করা হবে। তালিকায় অযোগ্য ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধিদের আত্মীয়স্বজনের নাম থাকার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)