Home » বরিশাল » বাবুগঞ্জ » রাতে ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ,দুই ঘণ্টা পর মৃত্যুর খবর বাবুগঞ্জে মনির ফকিরের মৃত্যু ঘিরে রহস্য
২৭ October ২০২৬ Tuesday ৯:৩৩:৪৭ PM
রাতে ঘর থেকে চিৎকারের শব্দ,দুই ঘণ্টা পর মৃত্যুর খবর বাবুগঞ্জে মনির ফকিরের মৃত্যু ঘিরে রহস্য
বাবুগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বরিশালের বাবুগঞ্জে মোঃ মনির ফকির (৫০) নামে এক ব্যক্তির রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের গোয়ালবাথান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর আগে ঘর থেকে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার শোনার দাবি করেছেন প্রতিবেশীরা।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাসিমা বেগম ও মেয়ে মারিয়ার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনেরা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন নিহতের মেয়ে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তসহ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
নিহত মনির ফকির ওই গ্রামের মৃত আফসার ফকিরের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ট্রোকজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে মনির ফকিরের বাড়ি থেকে চিৎকার ও কান্নাকাটির শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। এ সময় কয়েকজন প্রতিবেশী তাঁর বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে পারিবারিক ব্যাপার বলে তাঁদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন। পরে রাত ১২টার দিকে মনির ফকিরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই তাঁর মৃত্যু ঘিরে এলাকায় সন্দেহ ও নানা আলোচনা শুরু হয়। জমিজমা ও পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
প্রতিবেশী জাকিয়া বেগম জানান, অসুস্থ হওয়ার পর থেকে মনির ফকিরের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের প্রায়ই ঝগড়া হতো। ঘটনার রাতেও তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জাকিয়া বেগমের দাবি, মারধরের পর মনির ফকির পাশের বাড়িতে গিয়ে বাঁচানোর আকুতি জানান। পরে তিনি আবার নিজের বাড়িতে ফিরে যান। এরপর ওই বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা যায়। কিছুক্ষণ পর তাঁর মৃত্যুর খবর পান তাঁরা। ঘটনাটি তাঁর কাছে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হয়নি।
স্থানীয় এক যুবক জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাঁরা তিনবার জোরে চিৎকারের শব্দ শুনতে পান। পরে কয়েকজন প্রতিবেশী খোঁজ নিতে গেলেও প্রথমে কোনো সাড়া পাননি। এর কিছুক্ষণ পর পরিবারের পক্ষ থেকে একজনকে ডেকে মনির ফকিরের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। মনির ফকির অসুস্থ হওয়ার পর থেকেই পরিবারে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল।
আরেক প্রতিবেশী নারী জানান, ঘটনার রাতে মনির ফকির তাঁদের বাড়ির সামনে গিয়ে ‘বড় ভাই’ বলে ডাকেন। এ সময় তিনি স্ত্রী ও মেয়ের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলে তাঁকে বাঁচানোর আকুতি জানান। পরে তাঁকে পাশের বাড়ির সিঁড়িতে বসানো হয়। কিছুক্ষণ পর তিনি নিজের বাড়িতে ফিরে যান। এরপর আবার ‘আমাকে বাঁচাও’ বলে চিৎকারের শব্দ শুনতে পান তাঁরা। পরে মনির ফকিরের আর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
নিহতের মেয়ে মারিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর বাবার ময়নাতদন্ত হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। পুলিশ তদন্ত করবে এবং আইন অনুযায়ী বিষয়টির বিচার হবে এটাই তিনি চান। পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় কারও পূর্ববিরোধ থাকতে পারে, যার জেরে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
মারিয়া আরও বলেন, গত সাত থেকে আট মাস ধরে তিনি পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বাবার সঙ্গে সংসারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে পারিবারিক কলহ থাকলেই তাঁর বাবাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তিনি মেনে নেননি।
নিহতের স্ত্রী নাসিমা বেগম জানান, তাঁর স্বামী আগে খুলনায় গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরিরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে তিনি স্ট্রোক করেন। পরে তাঁর চিকিৎসা করানো হলেও অসুস্থতার কারণে আর কাজে ফিরতে পারেননি। এতে পরিবারের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। সংসারের খরচ চালাতে ধারদেনাসহ বিভিন্নভাবে অর্থের সংস্থান করতে হতো। সংসারের নানা বিষয় নিয়ে তাঁর স্বামীর সঙ্গে পরিবারের অন্য সদস্যদের ঝগড়াঝাঁটি হতো বলেও জানান নাসিমা বেগম। তবে তাঁর স্বামীর মৃত্যু স্ট্রোকের কারণে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মনির ফকিরের বোন জানান, রাত প্রায় তিনটার দিকে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়িতে এসে তাঁর মরদেহ খাটের ওপর দেখতে পান। এ সময় তাঁদের মা পাশে বসে ছিলেন। তাঁর দাবি, প্রায় সাত মাস আগে স্ট্রোক করার পর থেকেই ভাইয়ের সংসারে নানা সমস্যা চলছিল। ভাইয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে তাঁরও প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মনির ফকিরের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)