বামনায় স্লুইজ গেট এখন কৃষকের অভিশাপ মনোতোষ হাওলাদার, বামনা
বামনা :: বরগুনার বামনা উপজেলার বিষখালী নদী তীরবর্তী ২০টি গ্রামের আবাদী জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেওয়ায় প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার ফসর বিনষ্ট হচ্ছে। অপরিকল্পিত ভাবে বাঁধ নির্মাণ এবং স্লুইজ গেট গুলো সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। ফলে বর্তমানে স্লুইজ গেট গুলো আর্শীবাদ না হয়ে কৃষকদের অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে।
বরগুনার বামনা উপজেলার বামনা সদর, বুকাবুনিয়া, রামনা ও ডৌয়াতলা ইউনিয়নের সব কয়টি খালের উপর নির্মিত স্লুইজ গেট গুলো এখন কৃষকদের মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। শুধু স্লুইজ গেটই নয় রেগুলেটর দীর্ঘ দিন নষ্ট থাকায় এ অঞ্চলের কয়েক হাজার কৃষক পানি সমস্যায় ভুগছেন। এসব ইউনিয়নের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানাযায়, ১৯৮৫ সালের দিকে এ সকল ইউনিয়ন গুলোর বিভিন্ন খাণের উপর প্রায় ২০ টির ও বেশি স্লুইজ গেট নির্মান করা হয়।
স্লুইজ গেট নির্মানের ফলে বামনা সদরের পুরাতন বামনা খাল, হলতা নদী, দক্ষিন রামনা খেয়া ঘাট এলাকা, খোলপটুয়া, চলাভাংগা, জাফ্রাখালী সহ বিভিন্ন খাল ক্রমশই গভীরতা হারিয়ে ফেলেছে। এ খাল গুলো দিয়ে ফসলী জমিতে একবার পানি উঠলে আর নামার কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে এক সময়ে এ পানি নষ্ট হয়ে বিষাক্ত হয়ে যায়। তাই কৃষকরা পানিবাহিত রোগের কারণে আউশ আমন চাষ করতে পারেনা। আবার বোরো সৃজনে জমিতে পানি নাথাকায় বোরো আবাদ করা যাচ্ছেনা।
বামনা উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে, বামনা উপজেলা মোট আবাদী জমির পরিমান ৭ হাজার ১০০ হেক্টর । গত বছর উফশী আউশ ও স্থানীয় আউশ ফসলের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী উৎপাদন ব্যহত হয়। ওই মৌসুমে পানির অভাব ও পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি আবাদ করা যায়নি। এতে এ উপজেলায় ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
বামনা উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা প্রতীক মিত্র বলেন, গতবছর একাটানা বৃষ্টিপাত এবং বেড়িবাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করায় নিমাঞ্চাল প্লাাবিত হয়েছে ঠিকই কিন্তু পানি নিস্কানের ব্যবস্থা গুলো সচল থাকলে জলাবদ্ধার সৃষ্টি হত না এবং ফসলের ব্যপক ক্ষতি হতনা । আমাদের হিসাব অনুযায়ী শুধু গত বছর জলাবদ্ধার কারনে ১২ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। আমারা এ ক্ষতি নিরসনের জন্য উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে অবহিত করেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত এর কোন প্রতিকার নেওয়া হয়নি। ফলে এ বছর কৃষকের ক্ষতির আশংঙ্কা রয়েছে।
বরগুনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের বামনা উপজেলার দায়িত্বে থাকা শাখা কর্মকর্তা (এস,ও) মো. আবু হানিফ বলেন, বামনার বেরিবাঁধ কার্যকর করতে হলে বাঁধ গুলো আরো উচু করা প্রয়োজন। সে লক্ষে এ বছর বামনা উপজেলায় বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে মাত্র ৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কারের অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
সম্পাদনা: বরিশাল ডেস্ক |