বামনায় এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় প্রবেশপত্রের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ মনোতোষ হাওলাদার
বামনা :: চলতি এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় বরগুনার বামনা উপজেলায় তিনটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের নিকট হতে অতিরিক্ত প্রবেশপত্র ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ১৩ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১৩টি মাদ্রাসা থেকে অংশগ্রহণকারী এক হাজার ১৬জন পরীক্ষার্থীর নিকট হতে নির্ধারিত প্রবেশপত্র ফিয়ের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা ধার্য্য করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্র ফি বাবদ বোর্ড নির্ধারিত এসএসসি (সাধারণ) ২০০ টাকা, এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার্থীর জন্য ২৫০ টাকা ও মাদ্রাসা পরীক্ষার্থীর জন্য ২৫০ টাকা করে ফরম পুরণের সময় নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু পরীক্ষা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এসএসসি, ভোকেশনাল ও দাখিল পরীক্ষার্থীদের নিকট থেকে ৫০০ টাকা হারে অর্থ উত্তোলন করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চলাভাঙ্গা রশীদিয়া দারুচ্ছালাম দাখিল মাদ্রাসার কয়েকজন পরীক্ষার্থী জানায়, তারা পরীক্ষার প্রবেশপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকার জন্য বিপাকে পড়ে। তাদের কাছ থেকে পরীক্ষার প্রবেশ পত্র ফি বাবদ ৫০০ টাকা ও শিক্ষকদের কেন্দ্রে যাতায়াতসহ আপ্যায়নের কথা বলে বাড়তি আরো টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এবারের পরীক্ষায় বামনা উপজেলার সারওয়ারজান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ ও আসমাতুন্নেসা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি(জেনারেল)-৩২৬ জন, এসএসসি(ভোকেশনাল)-১১৬ জন এবং হলতা ডৌয়াতলা সমবায় বহুমূখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি(জেনারেল)-২৮১ জন ছাত্র-ছাত্রী এবং বামনা সদর আর রশিদ ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দাখিল পরীক্ষায় ২৯৩ জন ছাত্র-ছাত্রী অংশ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এসব পরীক্ষা কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের নিকট হতে বাড়তি অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে হলতা ডৌয়াতলা পরীক্ষা কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব মো. নূরুল হক খান প্রবেশ পত্র ফি বাবদ অতিরিক্ত টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করে আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, পরীক্ষাকেন্দ্রে আনুসঙ্গিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় এ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রবেশপত্র ফি, ফরম পুরণের সময় নেওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের সুবিধার জন্য পরীক্ষার প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় নেওয়া হচ্ছে।
বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, প্রবেশপত্র বাবদ বাড়তি অর্থ আদায়ের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত ফি এর বাড়তি টাকা উত্তোলন অবৈধ। কোন কেন্দ্রে বাড়তি অর্থ আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীকে তা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শাহ্-আলমগীর আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ফরম পূরণের সময় যাদের ব্যবহারিক পরীক্ষা আছে তাদের কাছ খেকে ২৫০ টাকা এবং যাদের ব্যবহারিক পরীক্ষা নেই তাদের কাছ থেকে ২০০টাকা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু পরীক্ষার পূর্বে প্রবেশ পত্র বাবদ পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে যদি কোন অর্থ আদায় করা হয় তাহলে সেটি হবে সম্পূর্ন অবৈধ। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |