ধুঁকছে বরিশালের একমাত্র হৃদরোগ চিকিৎসাকেন্দ্র, শেবাচিমে রোগীর চাপ
নগর প্রতিনিধি:
দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে বরিশালের বিশেষায়িত হৃদরোগ চিকিৎসাকেন্দ্র ‘বরিশাল হার্ট ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’। ফলে বরিশালসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার বহু মানুষ উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।এদিকে, হৃদরোগীদের চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ।
শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক হৃদরোগী বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন।তাঁদের অনেকে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেন। তবে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) পর্যাপ্ত শয্যা ও জায়গা না থাকায় অনেক রোগীকে করিডোর ও মেঝেতে বিছানা পেতে থাকতে হয়।
এদিকে সরেজমিনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিউ সার্কুলার রোডে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের মোড়ে কোনো সাইনবোর্ড ছাড়াই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে একতলা ভবনটি। পাঁচতলা ভবন নির্মাণের উপযোগী ভিত্তির ওপর তৈরি এই ভবনের পেছনের বারান্দা ভেঙে গেছে।চুরি হয়েছে বিভিন্ন মালামাল। সব মিলিয়ে ভবনটি এখন অনেকটাই ভূতুড়ে রূপ নিয়েছে। তবে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সর্বশেষ সেখানে সাময়িকভাবে হামের টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছে।
ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে একটি পাথরের ফলক। ফলকের তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সালে ৫৬ শতাংশ জমির ওপর হার্ট ফাউন্ডেশনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরে ২০০৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এর উদ্বোধন করেন। কমপ্লেক্সটির প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ারের নাম ফলকে খোদাই করা রয়েছে। উদ্বোধনের পর থেকে পদাধিকারবলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়ররা ফাউন্ডেশনটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
ফাউন্ডেশনটির শুরু থেকেই দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন কেয়ারটেকার আব্দুস সালাম। বর্তমানে তিনি ও তাঁর স্ত্রী ভবনের একটি কক্ষে বসবাস করছেন। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে তিনজন নিরাপত্তাকর্মী, একজন ঝাড়ুদার ও একজন হিসাবরক্ষক সেখানে কর্মরত রয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাশার জানান, সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন ও আহসান হাবিব কামালের সময়েও হাসপাতালটিতে রোগীদের ভিড় ছিল। হাসপাতালটির প্রথম চিকিৎসক ছিলেন কলেজ অধ্যক্ষ এ কে এম সামসুদ্দিন। পরে বিশিষ্ট হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. রথীন্দ্রনাথ বোস সেখানে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দিতেন।
আবুল বাশারের ভাষ্য, ২০১৮ সালে নতুন পরিষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ক্ষোভ রয়েছে স্থানীয় সচেতন মহলে। তাঁদের দাবি, দ্রুত হাসপাতালটি চালু করে আধুনিক হৃদরোগ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হোক।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মশিউল মুনীর জানান, প্রতিদিন গড়ে শতাধিক রোগী শুধু হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে এ হাসপাতালে আসেন। বরিশাল হার্ট ফাউন্ডেশন চালু থাকলে শেবাচিম হাসপাতালের ওপর রোগীর অতিরিক্ত চাপ অনেকটাই কমত। পাশাপাশি রোগীরাও দ্রুত চিকিৎসাসেবা পেতেন।
এদিকে জনস্বার্থে দ্রুত বরিশাল হার্ট ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক ও মেয়র বিলকিস জাহান শিরিন।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
৩০ হাজার টাকা বেতনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে চাকরি, ৩ বেলা খাবারসহ নানা সুবিধা
বদর দিবস ও সমকালীন বিশ্ব: ঈমানি শক্তিতে জেগে ওঠার আহ্বান