সৌদি আরবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই পা হারানোসহ গুরুতর অসুস্থ দণ্ডিত এক আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন বরিশালের আদালত।
বুধবার (১ জুলাই) ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করে বরিশালের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়।আদালতের বিচারক পলি আফরোজ আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে আইনজীবী ও বেঞ্চ সহকারী জানিয়েছেন।
ওই আসামি গৌরনদীর ভীমেরপাড় এলাকার বাসিন্দা ফারুক সরদারের ছেলে রফিকুল ইসলাম সরদার (৩৫)।
তার চাচা জাকির সরদার জানান, ২০১৭ সালের একটি মাদক মামলার আসামি ছিলেন রফিকুল ইসলাম। পরে তিনি সৌদি আরবে যান।সেখানে গিয়ে গত জানুয়ারি মাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনায় তার দুটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে।পেছনের মাথা থেকে পিঠ ও হাত ঝলসে গেছে। তার মাথাও স্বাভাবিকভাবে কাজ করে না। সৌদি আরবে চিকিৎসা শেষে গত মাসে দেশে ফিরে আসেন। তার দেশে ফেরার খবর পেয়ে দুই দিন আগে পুলিশ বাড়িতে যায়। তখন তার শারীরিক অবস্থা দেখে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পুলিশের আশ্বাস ছিল, আদালত তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় জামিন দেবেন। কিন্তু আদালতে আনার পর জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চাচা জাকির সরদার ও অপর চাচা তরিকুল জানান, রফিকুলের সেবাযত্নে চারজন মানুষের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া তার পায়ে সংক্রমণ হয়েছে। তিনি একা কিছুই করতে পারেন না। এ অবস্থায় কারাগারে গেলে না খেয়ে থাকার পাশাপাশি সংক্রমণ আরও গুরুতর হয়ে যেতে পারে।
রফিকুলের আইনজীবী একরামুজ্জামান জয় বলেন, তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার জামিনের জন্য উচ্চ আদালতে আবেদন করা হবে, যাতে তিনি ন্যায়বিচার পান। আইনে শুধু শাস্তির নয়, প্রতিকারের কথাও বলা হয়েছে। তাকে সামনে থেকে দেখলে বোঝা যাবে তিনি শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ অক্ষম। তার দুটি পা নেই, শরীরের অনেক অংশ ঝলসে গেছে। আইনি কার্যক্রমের জন্য একজন আসামিকে কারাগারে রাখা হয়। কিন্তু এ অবস্থায় তার পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়েছিলাম। তবে আদালত সেটি বিবেচনা করেননি। এখন আমরা উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হব।
প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রেজাউল ইসলাম জানান, আসামি রফিকুল ইসলাম সরদারকে ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করেছে। আইনানুযায়ী বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। এক্ষেত্রে তাকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগ নিম্ন আদালতের নেই। উচ্চ আদালত চাইলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।
বরিশাল হাজতখানার এএসআই মো. আলমগীর বলেন, প্রথমে আসামিকে সাধারণ কয়েদির মতো রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে তার শারীরিক অবস্থা দেখে কারা হাসপাতালে রাখার অনুমতি চাওয়া হয়। বিচারক সেই অনুমতি দিয়েছেন। এরপর পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে হস্তান্তর করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বন্দরের এবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় রফিকুল ইসলামসহ দুজনকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, রফিকুলের প্যান্টের পকেট থেকে ৬০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় উজিরপুর মডেল থানায় দুজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। পরে ওই মামলায় তার অনুপস্থিতিতে আদালত তাকে কারাদণ্ড দেন।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশাল বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৬০ হাজার ৪৩৬ পরীক্ষার্থী