পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষকে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির কার্যালয়ে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশে নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সাক্ষী ও প্রমাণাদিসহ উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উপস্থিত না হলে অভিযোগের বিষয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নোটিশের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিবাদী পক্ষ। তাদের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। এমন অবস্থায় রাজনৈতিক দলের কার্যালয় থেকে নোটিশ দিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা কতটা আইনসঙ্গত, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
ঘটনাটি কুয়াকাটা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাঞ্জুপাড়া এলাকার হোটেল সান মেরিনা-সংলগ্ন জমি নিয়ে।
সম্প্রতি কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমানের স্বাক্ষর করা একটি নোটিশে বাদী হিসেবে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আকন এবং বিবাদী হিসেবে মোঃ মোশারফ হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিশে জমি-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেল ৪টায় কুয়াকাটা পৌর বিএনপির কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সাক্ষী ও প্রমাণাদিসহ উভয় পক্ষকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
নোটিশের নিচের অংশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে উপস্থিত না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে অভিযোগের বিষয়ে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নোটিশটি ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়েছে। তবে নোটিশ পাওয়ার পর এর বৈধতা ও এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিবাদী মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।
মোশারফ হোসেন বলেন, ২০১০ সালে হোটেল নির্মাণের জন্য তিনি ওই জমি রেজিস্ট্রি করেন। পরে জমিটি নামজারি করেন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন। জমির চারপাশে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি সেমিপাকা ঘর ও কয়েকটি কটেজ নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভোগদখলে রয়েছেন।
তার দাবি, সম্প্রতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আকন ওই জমি রাখাইন সম্প্রদায়ের জমি বলে দাবি করে বিভিন্নভাবে তাকে হয়রানি করছেন।
মোশারফ হোসেন বলেন, “গতকাল আমার হোটেলে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর করা একটি নোটিশ আসে। সেখানে আমাকে বিএনপি কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। আমি উপস্থিত না হলে একতরফা সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। বিএনপির কেন্দ্র থেকে এভাবে সালিশ করার কিংবা একতরফা কোনো আইনগত সিদ্ধান্ত দেওয়ার নিয়ম আছে কি না, আমার জানা নেই।”
তিনি আরও বলেন, বিএস রেকর্ডে ভুলক্রমে অন্য একজনের নামে জমিটি রেকর্ড হয়ে যায়। এ নিয়ে ২০২১ সালে পটুয়াখালীর দ্বিতীয় সাব-জজ আদালতে ৩৭৯/২১ নম্বর মামলা করেন তিনি। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। ওই জমির বিষয়ে আদালতের স্টে অর্ডারও রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় নোটিশ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন।
তবে নোটিশে উভয় পক্ষকে বিএনপি কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ এবং অনুপস্থিত থাকলে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা উল্লেখ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই স্বাক্ষরটি আমার কি না, সেটা দেখতে হবে। এরকম করার তো সুযোগ নেই। তারপরও কীভাবে কী হলো, বিষয়টি আমাকে দেখতে হবে।” পরে এ বিষয়ে আরও কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজ মুসল্লির বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে আমি কথা বলতে চাই না।” এরপর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মুজিবুর রহমান টোটন বলেন, নোটিশটি আমাদের নজর এসেছে, বিএনপি’র রকম সালিশি করার কোন এখতিয়ার নেই। আমি খোঁজখবর নিচ্ছি।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর
অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন জরাজীর্ণ: বরিশালে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ক্লাসে লাখো শিশু