কাউখালীতে শ্রীগুরু সংঘের কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ সাবেক কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে
কাউখালী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা
পিরোজপুরের কাউখালীতে শ্রীগুরু সংঘ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় আশ্রমের তহবিল তছরুপ, অনিয়ম ও আশ্রমের পরিবেশ অশান্ত করার অভিযোগে সংগঠনটির বহিষ্কৃত সাবেক কোষাধ্যক্ষ বিপুল বরন ঘোষ ও তাঁর অনুসারীদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে আশ্রমের পরিচালনা কমিটি ও সাধারণ ভক্তরা। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কাউখালীতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করা হয়। আশ্রমের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ মন্ডল লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিপুল বরন ঘোষ আশ্রমের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে থাকাকালে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও অর্থনৈতিক দুর্নীতি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তহবিল তছরুপসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে আশ্রম থেকে আইনানুগভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আশ্রমের ১ কোটি ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৮১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পিরোজপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে আশ্রমের সাবেক কোষাধ্যক্ষ বিপুল বরন ঘোষ ও তাঁর অনুসারীরা আশ্রমের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। তাঁরা প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, গত ৫ আগস্টের পর ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সংঘর্ষবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় বিপুল বরন ঘোষকে আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে তিনি জামিনে বের হয়ে আশ্রমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়। আশ্রম কর্তৃপক্ষের দাবি, বিপুল বরন ঘোষ ও তাঁর অনুসারীদের কর্মকাণ্ডের কারণে আশ্রমের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে আশ্রমের বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও ভক্তদের অনুদান লুটপাটের একটি নীলনকশা তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অভিযোগের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে তদন্ত করছে। প্রশাসনের এই আইনানুগ ও নিরপেক্ষ ভূমিকার প্রতি আশ্রম কর্তৃপক্ষ আস্থা প্রকাশ করে। এ সময় আশ্রমের পক্ষ থেকে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে আসন্ন বার্ষিক উৎসব শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে সম্পন্ন করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তা ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করা হয়।
এ ব্যাপারে বিপুল বরণ ঘোষ বলেন, আমার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে যে অভিযোগ এনেছে মিথ্যা,বানোয়াট ও উদ্দেশ্যেপ্রনীত। আমি মঙ্গলবার আশ্রমে প্রবেশ করিনি। জেলা প্রশাসনের আমন্ত্রণে আমরা কতিপয় সদস্য আশ্রমে গেলে আশ্রম গেটে আমাদের মব করে। সেখান থেকে আমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কার্যালয়ে চলে আসি। আর আমার বিরুদ্ধে কোন হত্যা মামলা নাই। আশ্রম থেকে অর্থ তসরুফের যে মিথ্যা মামলা করেছে মহামান্য জজ আদালত তা খারিজ করেছে ।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর
অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন জরাজীর্ণ: বরিশালে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ক্লাসে লাখো শিশু