বরিশালে ৪২ কোটি টাকার দরপত্র ছিনতাই, থানায় জিডি স্টাফ রিপোর্টার
 ছবিতে লাল বৃত্ত চিহ্নিত ছাত্রলীগ ক্যাডার মঈন তুষার (ছবিটি ২০১১ সালের ১১ মার্চ বিএম কলেজের সামনে থেকে তোলা) – ফাইল ফটো
বরিশাল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রায় সাড়ে ৪২ কোটি টাকার টেন্ডার দরপত্র (সিডিউল) ও ৭৯ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরন অনুসারী ছাত্রলীগ ক্যাডার মঈন তুষারের নেতৃত্বে এ ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় সাধারন ডায়রী করেছেন ক্ষতিগ্রস্থ ঠিকাদার।
একই সাথে ঠিকাদার সুলতান মাহমুদ নির্বাহী প্রকৌশলীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং প্রকল্প পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর রূপাতলী ও বেলতলায় নির্মানাধীন ২টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের পানি সরবরাহের পাইপ লাইন স্থাপনের ৪ গ্রুপের ৪২ কোটি ৩১ লাখ টাকার কাজের দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল সোমবার। সকাল থেকে দরপত্র জমা দেয়ার নির্ধারিত স্থান নগরীর সিএন্ডবি রোডের জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাহাড়া বসায় ছাত্রলীগ নেতা মঈন তুষার, জুবায়ের ও লিখনসহ অন্যান্যরা। এ কারণে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে দরপত্র জমা দিতে পারেননি অনেকই।
অবস্থা বেগতিক দেখে ১২টার দিকে মেসার্স সুলতান এন্টারপ্রাইজ-জেভি’র পক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রক্ষিত টেন্ডার বক্সে ৩ গ্রুপ কাজের দরপত্র জমা দিতে যান সুলতানের ব্যবসায়ীক পার্টনার মিজানুর রহমান।
মিজান অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রক্ষিত টেন্ডার বক্সের কাছে যাওয়া মাত্রই সাবেক মেয়র হিরনের পরিচয় দিয়ে মঈন তুষার, জুবায়ের ও লিখনসহ অন্যান্যরা তার হাতে থাকা ৭৯ লাখ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টিসহ তিনটি দরপত্র ছিনিয়ে নেয়। এতে তিনি হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। পরে তাকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয় ক্যাডাররা।
এ ঘটনায় সুলতান মাহমুদ কোতয়ালী থানায় সাধারন ডায়রী করেছেন বলে জানান মিজান। তার মতো অনেকেই ক্যাডারদের বাঁধার কারনে দরপত্র জমা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেছেন মিজান।
একইভাবে মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের পক্ষে জনৈক ফরহাদ এই কাজের ৪টি দরপত্র জমা দিতে গেলে তাকেও ছাত্রলীগ ক্যাডাররা বাঁধা দেন বলে অভিযোগ করেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। খবর পেয়ে গোলাম মাওলা ফরহাদের বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ লোকজন নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে তাদের দরপত্র জমা দেন।
কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মেহেদি হাসান বাদল বলেন, তার ভাইকে প্রথমে দরপত্র জমা দিতে বাঁধা দেয়া হলেও পরে তাকে চিনতে পাড়ায় তিনি দরপত্র জমা দিতে পেরেছেন।
বাঁধাদানকারীদের হোতা ছাত্রলীগ নেতা মঈন তুষারের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিক বার রিং দেয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন জনস্বাস্থ্যের টেন্ডার দরপত্র ও ব্যাংক গ্যারান্টি ছিনতাইয়ের ঘটনায় সাধারন ডায়রী দায়েরের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘অভিযোগের তদন্ত চলছে।’
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহেআলম আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, তার কার্যালয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দরপত্র জমা নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কি হয়েছে তা তার জানা নেই। ঠিকাদার লিখিত অভিযোগ করলেও তা হাতে পাননি বলে জানিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী শাহেআলম।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নগরীর কাশীপুর-আমতলা মোড়, রূপাতলী-হাসপাতাল-নথুল্লাবাদ, হাসপাতাল রোড-তালতলী এবং সাগরদী থেকে নগরভবন সংলগ্ন পর্যন্ত পানি সরবরাহের ৪২ কোটি ৩১ লাখ টাকার পাইপ লাইন স্থাপনের ৪ গ্রুপ কাজের টেন্ডার জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল সোমবার। তাদের কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রক্ষিত টেন্ডারবক্সে দরপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ কাজের বিপরীতে বরিশাল ও ঢাকা অফিস থেকে ২২টি দরপত্র বিক্রি হলেও টেন্ডার বাক্সে জমা পড়েছে মাত্র পাঁচটি।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |