কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে নির্মাণ হচ্ছে ‘ট্যুরিজম পার্ক’ অনলাইন ডেস্ক
 ছবি: সংগ্রহীত
সাগরকণ্যা খ্যাত কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে নির্মাণ হচ্ছে ‘ট্যুরিজম পার্ক’। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ পার্কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে দ্রুতালয়ে এগিয়ে চলছে নির্মাণ কাজ বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
জানাগেছে, বেড়িবাঁধের বাইরে ঐতিহ্যবাহী নারিকেল বাগানোর মধ্যে খালি জায়গায় ১৬০ ফুট দীর্ঘ এবং ১২০ ফুট প্রস্থ ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণ কাজ চলছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অর্থায়নে এক কোটি টাকা ব্যয়-বরাদ্দে সাগরপাড়ের মনোরম পরিবেশে এই পার্কটি দৃষ্টিনন্দন হবে।
সাগরে গোসল করতে নামার আগে পর্যটকরা এ পার্কটিতে থাকা লকার ব্যবহার করতে পারবেন। যেখানে জুতো-স্যান্ডেল, মোবাইল। টাকা-পয়সাসহ সবকিছু গচ্ছিত রাখতে পারবেন। নামে মাত্র সার্ভিস চার্জের বিনিময় এ লকার ব্যবহার করবেন পর্যটকরা। অন্তত দুই শ’ লকার থাকছে।
থাকছে বাউন্ডারি ঘেরা দৃষ্টিনন্দন পার্কটি। আলাদা বিশ্রামাগার থাকছে। সেখানে সোফার ব্যবহার থাকছে। বসেই উত্তাল সমুদ্রে দৃষ্টি রাখতে পারবেন পর্যটক। সাগরে গোছল শেষে হাত-পা ধোয়ার জন্য পানির সরবরাহ লাইনসহ অসংখ্য ট্যাপ থাকছে। পুরুষ ও মহিলাদের আলাদাভাবে পোশাক-পরিচ্ছদ পাল্টানোর মতো স্পেস নিয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কক্ষ থাকছে।
আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থার সঙ্গে অত্যাধুনিক সুবিধা সংবলিত ওয়াশরুম। ৫০ সিটের কফি হাউস। প্রায় ৪০ ফুট দীর্ঘ দুই সারিতে কফি হাউসের আড্ডায় বসতে পারবেন আগতরা। থাকছে কাফে কর্ণার। এমনকি ফি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বিশেষ কনসার্টের ব্যবস্থা করা হবে এ পার্কটিতে।
কলাপাড়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তানভীর রহমান জানান, ইতোমধ্যে বাউন্ডারির কাজ শেষের দিকে। চারদিকে এ পার্কে বিশাল আকৃতির স্থায়ী ছাতা থাকছে। যার নিচে পর্যাপ্ত সংখ্যক চেয়ার থাকছে। পার্কটি সবসময় প্রশাসনিক নিরাপত্তার আওতায় রাখা হবে। পার্ক অভ্যন্তরে বিশেষ কারণে পর্যটকরা রাত্রি যাপনেরও সুযোগ থাকবে। এমনকি পার্ক সংলগ্ন সীবিচে বোল্ডার দিয়ে সাগরের ঢেউয়ে বেলাভূমি ক্ষয়রোধেও বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোতালেব শরীফ জানান, জেলা প্রশাসন ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণ করায় পর্যটকের দীর্ঘদিনের একটি দাবি পুরন হলো। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ট্যুরিজম বোর্ড এবং পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসককে তিনি ধন্যবাদ জানান।
পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোঃ মাছুমুর রহমান জানান, পর্যটকের দীর্ঘদিনে দাবি ছিল এ পার্কটি নির্মাণ করার। যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আধুনিক পর্যটনকেন্দ্রে উন্নীতের ধারাবাহিক একটি কাজ এই ট্যুরিজম পার্ক। আগামি তিন মাসের মধ্যে দৃষ্টিনন্দন এ পার্কটির নির্মাণ কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। এটি চালু হলে পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দে কুয়াকাটা উপভোগ করতে পারবে।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |