ভাঙছে কুয়াকাটা সৈকত, বিলীন হচ্ছে বন অনলাইন ডেস্ক
 ফাইল ফটো
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতঘেষা সংরক্ষিত বনাঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সাগরের ঢেউয়ের ঝাপটায় দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার পৃথিবীর একমাত্র সৈকতে ভাঙনের কারণে বিলীন হচ্ছে বনের গাছ।
সাগরের ঢেউয়ের ঝাপটায় সৈকতের গাছের মূল থেকে বালু সরে শিকড় বেরিয়ে রয়েছে। কোনো রকম দাঁড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু গাছ। সৈকতে বিশাল এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য গাছের মূল। জোয়ারের স্রোতে ঢেউয়ের আঘাতে বালুতে লুটিয়ে পড়ছে বড় বড় গাছ। সৈকতে পড়ে থাকা গাছগুলো উপকূলের লোকজন কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আর নিচের অংশ সৈকতেই পড়ে রয়েছে।
উপকূলীয় বন বিভাগের পটুয়াখালী কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, কুয়াকাটায় বনের আয়তন ২ হাজার ১৬৫ দশমিক ৮০ একর। ২০০৫ সালে সরকার একে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে। পর্যটকদের কাছ আকর্ষণীয় করে গড়ে তুলতে ২০০৭-২০০৮ অর্থবছরে প্রাকৃতিক বনসংলগ্ন এ সৈকত ঘেঁষে ১০ হাজার হেক্টর ভূমির ওপর ঝাউ-বাগান গড়ে তোলা হয়। ২০১০ সাল থেকে এই বনে নতুন বাগান করা হয়। তবে ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর থেকেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সামুদ্রিক ঢেউয়ের ঝাপটায় ভাঙনের মুখে পড়ে বনাঞ্চল। প্রতিবছর অন্তত ১০০ একর বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে।
উপকূলীয় বন বিভাগের পটুয়াখালী কার্যালয়ের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, কুয়াকাটায় বন বিভাগের এলাকায় ‘জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ইকো ট্যুরিজম উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সৈকতে ভাঙন প্রতিরোধে পাউবোকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হচ্ছে।
পাউবোর কলাপাড়া কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, ভাঙন রক্ষায় একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এটির অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ পেলে কাজ শুরু হবে।তথ্য: প্রথম আলো
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |