বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার দক্ষিণে হরিনঘাটা পর্যটন কেন্দ্র। হরিণঘাটা আসলে সুন্দরবনেরই একটি অংশ। হরিন, বানর, সবুজ লতাপাতা, আর পাখির ডাকে সারাক্ষণ মুখর থাকে হরিণঘাটা বনাঞ্চল। এ বনে কোন বাঘ নেই। বঙ্গোপসাগরের মোহনায়, পায়রা, বিষখালি, বলেশ্বর -এই তিন নদীর সঙ্গমস্থলে অবস্থিত এই বনাঞ্চল। নতুন ভাবে যোগ হয়েছে নদীর ধারের ঝাউবন। কাছাকাছি আছে ফাতরার চর ও পদ্দার পাড়। চাইলে ট্রলার ভাড়া করে ঘুরতে ঘুরতে কুয়াকাটাও যেতে পারেন।
এ বনে রয়েছে একটি পায়ে চলার উচুঁ পথ। এ উচুঁ পথের নাম ফুট ট্রেইল এঁকেবেঁকে চলা উঁচু পিলারের ওপর পায়ে চলা পথ দিয়ে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দে বনের প্রকৃতি ও সাগর তীর দর্শনের সুযোগ পাবেন। হরিণঘাটার এই ফুট ট্রেইল (বনের ভেতর পায়ে চলা সেতু আকৃতির পথ) হরিণঘাটা বনে দর্শনার্থীদের নিসর্গ মায়ায় টানছে। ফুট ট্রেইল নির্মাণের ফলে হরিণঘাটা বন আকর্ষণীয় পর্যটনের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। প্রতিদিন হরিণঘাটা বনে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। এখানে প্রবেশ মূল্য জনপ্রতি ১২ টাকা মাত্র।
জানা-অজানা গাছ আর বন্যপ্রাণীর এই বিচরণস্থল সুন্দরবনেরই একটি অংশ। হরিণঘাটা বনের কাছ দিয়ে বয়ে চলা বলেশ্বর, বিষখালি এবং পায়রা নদী বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে। যান্ত্রিক কোলাহলের বাইরে পাখির কলকাকলিতে প্রকৃতির নৈস্বর্গিকতায় দেখা হয়ে যেতে পারে হরিণ, বানর, শূকরসহ অন্যান্য বন্য প্রাণীর সঙ্গে। অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগের জন্য এ বনে রয়েছে একটি সুউচ্চ ওয়াচ টাওয়ার। এ ওয়াচ টাওয়ারের উপর থেকে হরিণঘাটার বনাঞ্চল দেখা যায়। এছাড়া এখানে দাঁড়িয়ে সুর্যাস্ত দেখা যায়।
সবুজ বনের ভেতরের দিয়ে তৈরী রাস্তা ধরে নদীর কাছে যাওয়া যায়। পর্যটকরা বোটে করে বন ঘুরে দেখতে পারেন। চলে যেতে পারেন তিন নদীর মোহনায় সমুদ্রের জলে গা ভেজাতে কিংবা বলেশ্বর নদী পাড় হয়ে সুন্দরবনে ঢু মারতে পারেন। এছাড়াও হরিণঘাটা পর্যটন কেন্দ্র পিকনিক আয়োজনের সুব্যবস্থা রয়েছে। (হরিণঘাটা পর্যটন কেন্দ্র থেকে দুই থেকে তিন ঘণ্টার পথ পেরুলেই রয়েছে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত।)
যেভাবে যাবেনঃঢাকা গাবতলি থেকে সরাসরি পাথরঘাটা যাওয়ার বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৬৫০ টাকা। চাইলে বরগুনা বা বরিশালগামী লঞ্চে চড়েও যেতে পারবেন। বরিশাল থেকে প্রতি ঘন্টায় পাথরঘাটার উদ্দেশ্যে বাস ছেড়ে যায়। বরিশাল থেকে পাথরঘাটার ভাড়া ২০০ টাকা। যদি বরগুনার লঞ্চে যাত্রা করেন তবে কাকচিড়া ঘাটে লঞ্চ থেকে নেমে মটরসাইকেল ভাড়া করে সহজে পাথরঘাটায় যেতে পারবেন। পাথরঘাটা থেকে বাইকে চড়ে হরিনঘাটা যেতে ৩০ মিনিট লাগে।
কোথায় থাকবেনঃ হরিণঘাটায় রাত্রিযাপনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে পাথারঘাটায় সরকারি ডাকবাংলো এবং কয়েকটি আবাসিক হোটেলে আছে। কিংবা বরগুনা শহরে ফিরে এসে হোটেলে রাত্রি যাপন করতে পারেন।
কোথায় খাবেনঃহরিণঘাটায় খাবারের তেমন ভাল ব্যবস্থা নেই। তাই সবচেয়ে ভাল হবে পাথারঘাটা থেকে প্রয়োজনীয় খাবার কিনে সাথে পরিবহন করা।
বঙ্গোপসাগরের নিকটে হওয়ায় পাথারঘাটার খাবার হোটেল গুলোতে প্রায় সব ধরনের সামুদ্রিক মাছ পাওয়া যায়।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
ছাত্রদল নেতাদের বাধা: ফের আটকে গেল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক নির্মাণকাজ