| বরিশাল আ’লীগে তবুও ওরা ক্ষমতাধর! আহমেদ জালাল
বরিশাল :: মহাজোট নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিন বদলের সনদ বাস্তবায়নে নিরলস পরিশ্রমে এগিয়ে চলছেন। সরকারের নীতি নির্ধারকরাও ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছেন। ক্ষমতাসীন দল আ’লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দও শেখ মুজিবের স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়তে ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু দলের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা অর্থনৈতিক ফায়দা লোটা ব্যাক্তিরা সংগঠনকে বিতর্কের মুখে ঢেলে দিচ্ছে। মুলত ওরা দিন বদলের রূপকল্পের উল্টো পথে হাঁটছে। এতে বিতর্কিত হচ্ছে সরকার। বরিশালেও এরকম মনোভাবের ব্যাক্তি রয়েছে। যারা অব্যাহত নানাবিধ অন্যায় অনিয়মে বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্ম দিচ্ছে। এমনকি আ’লীগের হাইকমান্ডও এখানকার রাজনীতির বিতর্কিত কর্মকান্ডে তিক্ত বিরক্ত। তবুও ওরা ক্ষমতাধর। বিতর্কিতদের মধ্যে প্রথম সাড়িতে রয়েছেন মামুন মাহমুদ, মেজবাহ উদ্দীন দিপু ও আবুয়াল হোসেন অরুন। এর বাইরে দলের নাম ভাঙ্গিয়ে নিয়ম বহিভূতভাবে ক্ষমতা প্রর্দশন কারীর সংখ্যাও কম নয়। বিস্ময়কর হলেও সত্য এই যে, অন্ধকার জগতের দাপুটেদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শওকত হোসেন হিরন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, এক সময়ের জাতীয় পার্টির নেতা বর্তমান মহানগর আ’লীগের আহবায়ক বিসিসি মেয়র শওকত হোসেন হিরন। তার কনিষ্ট ভাই মামুন মাহমুদ। ৯৬’র আ’লীগ সরকারের আমলে নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ কুতুব রানার ছাত্রছায়ায় অন্ধকার জগতে পা রাখতে শুরু করেন মামুন। এরপর তিনি স্যাটেলাইট ক্যাবেল (ডিশ) ব্যাবসায় নামেন। তৎকালীন সময়ে রানার সহযোগী হিসাবে মামুন বিভিন্ন দপ্তরে টেন্ডারবাজীতে অংশ গ্রহন করেন। ক্ষমতার স্বাধ পেয়ে মামুন সাংগঠনিকভাবে আ’লীগে প্রবেশ করতে নানামুখী তৎপরতা চালায়। ১৯৯৮ সালে শওকত হোসেন হিরন জাতীয় পার্টির রাজনীতি ত্যাগ করে সাবেক চীফ হুইফ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ’র আর্শিবাদ নিয়ে আ’লীগে যোগদান করেন। আর দলের মধ্যে ভাই উপাধিতে ভূষিত হাসানাতের আর্শিবাদেই হিরন আ’লীগ নেতা বনে যেতে সক্ষম হন। ২০০৩ সালে শহর কমিটি ভেঙে গঠন করা হয় মহানগর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটি। আহবায়কের দায়িত্ব পান হিরন। জাপার রাজনীতির সময়কালে হিরনের আর্শিবাদপুষ্ঠরাও আ’লীগে ভীড়ে। সহধর হিরন মহানগরের শীর্ষ নেতায় আসীন হওয়ায় সহসাই যুবলীগের সদস্য পদ কপালে জুটে ডিশ ব্যাবসায়ী হিসাবে অনেকটা পরিচিত মামুনের। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর জনগনের রায় ঘোষনায় আ’লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পান। এর আগে একই বছরের ৪ আগষ্ট বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে আ’লীগের ব্যানারে প্রতিদ্বন্ধিতায় মেয়র পদে অধিষ্ঠিত হন হিরন। মুলত হিরনের মেয়র পদে আসীনের পর থেকে নগরীতে বেপরোয়া হয়ে উঠে আর্শিবাদপুষ্ঠ মহানগর যুবলীগের আহবায়ক সাবেক কমিশনার নিজামুল ইসলাম নিজাম, মামুন হোসেন, আ’লীগ নেতা মেজবাহ উদ্দীন দিপু, যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা আবুয়াল হোসেন অরুন। টেন্ডারবাজীতে কাজ ভাগিয়ে নেয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন পন্থায় অবৈধ পথে অগাধ সম্পদের মালিক হন তারা। নিজাম, মামুন, দিপু ও অরুনের দাপুটে শক্তিতে জিম্মীদশায় নগরীর সকল দপ্তর।
মেজবাহ উদ্দীন দিপু। বাড়ি নগরীর আলেকান্দায়। একদা ফ্রিডম পার্টির ব্যানারে চলত। জাতীয় পার্টি বিএনপিও করেছেন। অর্থাৎ সুবিধাবাদী নেতা। হিরন আ’লীগের যোগদানের পর দিপুও আ’লীগে ভীড়েন। বর্তমানে মেয়রের আস্তাভাজন দিপু। অন্যায় অপকর্মে বেপরোয়া মেয়রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ আবুয়াল হোসেন অরুন। তিনিও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সম্পূক্ত ছিলেন। বাড়ি বাকেরগঞ্জের দাড়িয়াল ইউনিয়নে। বাকেরগঞ্জে তিনি জাপার রাজনীতি করতেন। বিএনপি জামায়াত জোটের আমলের শুরুতে সাবেক কমিশনার মাহবুব আলমের হাত ধরে বরিশাল শহরে ঘাটি গেড়ে বসেন। নগরীর সাগরদী এলাকার মদিনা মসজিদ এলাকায় বসবাস করেন। সেখানেও দখল সন্ত্রাসে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। হিরনের সহচরের দায়িত্ব পালন করে আসছেন অরুন। আ’লীগ ক্ষমতায় আসার পর মেয়রের পর নগরীতে ক্ষমতাধর ব্যাক্তিতে পরিনত হন এই অরুন। তিনি বরিশাল চেম্বার অব কর্মাসের সদস্য না হয়েও সংগঠনটি নিয়ন্ত্রন করে আসছেন। বরিশাল অষ্টম আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলায় তিনি কর্তৃত্ব করেছেন। এবারও তিনি মেলার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছেন। দাপুটে অরুন চাঁদার দাবীতে কারিকর বিড়ি ফ্যাক্টরীতে হামলাও চালিয়েছিল। এ নিয়ে খোদ দলের মধ্যে থেকে অরুনের বিচারের দাবীতে নেতা-কর্মীরা স্বোচ্ছার হয়ে উঠে। মেয়র হিরনের আস্থাভাজন হওয়ায় একের পর এক অপকর্ম করে পার পেয়ে যাচ্ছে অরুন। এরপরও মেয়রের নিরব থাকার কি এমন রহস্য। কি এমন স্বার্থের কারনে অরুনদের বিতর্কের ভাগীদার হচ্ছেন মেয়র। এসব প্রশ্ন নগর জুড়ে ধুমায়িত হচ্ছে।
এদিকে একাধিক দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্য ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের চাপের মুখে রয়েছি। প্লীজ ভাই! দাপ্তরিক নিয়ম কানুন মেনে চলা সম্ভব হয়ে উঠছে না। মিডিয়ায় জানান দিলেও বিপদ। বরিশাল সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরন বিভিন্ন সময়ে টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী ঘোষনা দিচ্ছেন। টেন্ডারবাজী বা দপ্তরে অপ্রতিকর ঘটনা ঘটালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেছেন।কিন্তু তার কথার আর মাঠের চিত্র সম্পূর্ন উল্টো। প্রমান স্বয়ং মেয়রের ভাই মামুন হোসেন টেন্ডারবাজির নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্মও দিয়ে নগরীতে আলোচনার ঝড় তুলেছেন । আর এসব মেয়র চেয়ে চেয়ে দেখছেন বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনায় আলোচিত হচ্ছে। সূত্রগুলো বলছে, গত বছরের ২১ মার্চ বিকেলে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিন কোটি টাকার কাজ ভাগিয়ে নিয়েছে টেন্ডারবাজরা। লটারী ড্র হলেও সেখানে কোন সাধারন ঠিকাদারদের অংশ গ্রহন ছিল না। তাদেরকে ঢুকতেই দেয়া হয় নি। কাজ গুছ শেষে টেন্ডারবাজরা দপ্তরে উপস্থিত সকলের মাঝে মিষ্টি বিতরন করে উল্লাসও করেছে। সকাল থেকেই টেন্ডারবাজ হিসাবে চিহ্নিতরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় নিয়ন্ত্রনে নিয়ে সাধারন ঠিকাদারদের প্রবেশে বাধা হয়ে দাড়ায়। তাদের যুদ্ধাংদেহী আচরনে ভেতরে প্রবেশের কেউ সাহস পায়নি। বিকেল তিনটায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে টেন্ডার লটারীর ড্র করা হয়। কক্ষে নামকাওয়াস্তে আধা ঘন্টা ড্র’র নামে চরকা ঘোরানো হয়েছে। এমনকি চরকাও ঘুরিয়েছে টেন্ডারবাজ মেজবাহউদ্দীন দিপু। এরপর তারা লিখিতভাবেই কাজটি ভাগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। কাজ ভাগিয়ে নিয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র শওকত হোসেন হিরনের ভাই টেন্ডারবাজ মোঃ মামুন, যুবলীগের জেলা শাখার বহিস্কৃত নেতার আবুয়াল হোসেন অরুন, যুবলীগ নেতা মেজবাহ উদ্দীন দিপু, সাবেক কমিশনার বজলুর রহমান, ১০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর এটিএম শহিদুলাহ কবির। এ টেন্ডার লটারীর ড্র এর আগে একই বছরের ১৮ মার্চ ড্র হওয়ার কথা ছিল। নির্বাহী প্রকৌশলী সকাল ১০ টায় ড্র করার জন্য প্রস্তুতিও নিয়েছিল। টেন্ডারবাজদের চাপের মুখে দুপুর ১২ টায় নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশীদ লটারী স্থগিত ঘোষনা করেন। এতে সাধারন কয়েক ঠিকাদার প্রতিবাদ জানায়। ওই সময়ে ক্ষমতাসীন দলের টেন্ডারবাজরা এক সাধারন ঠিকাদারকে সহকারী প্রকৌশলী শাওনেওয়াজ তালুকদারের সামনে মারধর করেছে। এভাবে নগরভবন, এলজিইডি, সিএমএমইউ, স্বাস্থ্য ও কৃষি বিভাগ, ফ্যাসিলিটিজ বিভাগ, সড়ক ও জনপদ, বিদ্যুত বিভাগ, গণপূর্ত, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, মৎস অধিদপ্তর গুছ পার্টি দখলে রেখে কোটি কোটি টাকার কাজ হাতিয়ে নিচ্ছে। অপরদিকে গুছ পার্টির সদস্যরা বেশ কয়েক জন প্রকৌশলীকে মারধর করেছে।
গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারী দুপুরে যুবলীগ ক্যাডার টেন্ডারবাজ মেজবাউদ্দীন দীপু তার সহযোগী আলাল ওরফে টাক আলালসহ ৬/৭ জন টেন্ডারবাজ গণপূর্ত’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মোশারেফ হোসেনের কক্ষে প্রবেশ করে। অতঃপর তারা প্রকৌশলী কে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন ঠিকাদারী কাজ তাদের কথার বাইরে যায় কেন? উভয়ের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তারা নির্বাহী প্রকৌশলীকে চেয়ার থেকে তুলে নিয়ে মেঝেতে ফেলে বেদম মারধর করে। একই সঙ্গে অশ্লীল ভাষায় নির্বাহী প্রকৌশলীকে গালাগাল দেয়। খবর পেয়ে তথ্য সংগ্রহে জনকন্ঠের নিজস্ব সংবাদদাতা কাজী শামীম নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যান। তৎসময়ে মেজবাউদ্দীন দীপুর সহযোগী ক্যাডার আলাল ওরফে টাক আলাল তাকেও লাঞ্চিত করে ঘন্টা খানেক অবরুদ্ধ করে রাখে। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে কাজী শামীমকে হত্যারও হুমকি দেয়। পরে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজী শামীমকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় সাংবাদিক কাজী শামীম বরিশাল কোতায়ালী মডেল থানায় সাধারণ ডায়রী করেছেন। ডায়রী নং- ৬৬৭। এর আগে ঠিকাদারী কাজের ফাইল নিয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ আবরার আহমেদ কে লাঞ্চিত করেছে আ’লীগ ক্যাডার ঠিকাদার তপু ওরফে টারজান তপু। একই বছরের ১১ মার্চ বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২৪ গ্রুপের দেড় কোটি টাকার কাজের লটারী প্রক্রিয়া মামুন ও আবুয়াল হোসেন অরুনের তোপের মুখে স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আরিফ হোসেন। দাপ্তরিক নিয়মানুযায়ী লটারী প্রক্রিয়া শুরু করলে গুছ পার্টির মামুন ও অরুন ক্ষেপে গিয়ে প্রকৌশলীর উপর চড়াও হয়েছে। একই বছরের ৮ মার্চ জেলা পরিষদের টেন্ডার লটারতেও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি করে স্থগিত করা হয়। টেন্ডার লটারী স্থগিত করার প্রতিবাদে সাধারন ঠিকাদাররা নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনও করেছে। গত বছরের ৯ মার্চ রাতে যুবলীগ নেতা মেজবাহ উদ্দীন জুয়েল ওরফে ভিপি জুয়েল সড়ক ও জনপথ বিভাগের দাবীকৃত একটি কাজ না পাওয়ার ক্ষোভে বিদায় নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাবুদ্দীন আহম্মেদকে লাঞ্চিত করে। স্থান ত্যাগের আগের রাতে মদ্যপায়ী হয়ে জুয়েল পিস্তল উচিয়ে নগরীর রাজা বাহাদুর সড়কের সরকারী বাসভবনে প্রবেশ করে নির্বাহী প্রকৌশলীকে লক্ষ্য করে গুলি করতে উদ্যত হয়। তৎসময়ে বাসভবনে থাকা এক আ’লীগ নেতা ও নিরাপত্তারক্ষীদের বাধায় নির্বাহী প্রকৌশলী প্রানে রক্ষা পেয়েছেন। বরিশাল এলজিইডিতে হিজলা-মুলাদীর সাইক্লোন সেন্টারসহ স্কুল নির্মানে ১ কোটি ৮১ লাখ টাকার টেন্ডার ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে গত বছরের ২ আগষ্ট সন্ধ্যায় ঢাকার পল্টনের প্রিয়তম হোটেলের সামনে হিরন সমর্থিত মহানগর যুবলীগের আহবায়ক নিজামুল ইসলাম নিজামকে পেয়ে হাসানাত সমর্থিত যুবলীগ নেতা আলতাফ মাহমুদ দিপু জিজ্ঞাসা করে আপনি ঠিকাদারী কাজে কেন অন্যায় হস্তক্ষেপ করছেন। জিজ্ঞাসার বিষয়টি ভালভাবে মেনে নিতে পারে নি নিজাম এবং এই জিজ্ঞাসাকে রাচনৈতিক পুজি হিসেবে ব্যবহার করে। এজন্য তিনি চাউর ঘটান তাকে মারধর করেছে দিপু ও মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু। এ ঘটনায় ওই দিন মধ্য রাতে মেয়র হিরন সমর্থিত মেজবাহ উদ্দীন দিপু ও আবুয়াল হোসেন অরুনের ইন্ধনে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ, আমতলার মোরে বেশ কয়েকটি বাস ট্রাক ভাংচুর করে। কালু শাহ সড়কের শহীদ রহিম স্মৃতি সংঘ গুড়িয়ে দেয় ও আগুন লাগিয়ে দেয়। একই সঙ্গে হাসানাত সমর্থিত সাবেক ছাত্র নেতা চুন্নুর বাসভবনেও হামলা ও গুলি বর্ষন করা হয়। বরিশাল আ’লীগের গ্রুপিং রাজনীতিকে একে অপরকে ঘায়েলে মারধর, হামলা ভাংচুরের বিষয়টিতে ক্ষুব্ধ হন হাইকমান্ড। গ্রুপিং রাজনীতির ধারাবাহিকতায় নগরীতে হামলা ভাংচুর গুলি বর্ষনের অভিযোগে গত ৪ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কমিটির এক বৈঠকে বরিশাল জেলা ও মহানগরের ১১ নেতাকে বহিস্কার করা হয়। সর্বশেষ দপদপিয়া সেতুর ইজারাও ভাগিয়ে নিয়েছে মেয়র হিরনের আশির্বাদপুষ্ঠ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
বরিশাল সদর উপজেলা আ’লীগের আহবায়ক বিএম কলেজের সাবেক ভিপি আনোয়ার হোসাইন আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে এমপি মজিবুর রহমান সরোয়ারের নিকট তার দলের এক ঠিকাদার ১৫ পার্সেন্ট কমিশন নিয়ে গিয়েছিল।তিনি নেননি।তিনি নিয়েছেন ২০ পার্সেন্ট কমিশন। প্রতিটি কাজেই তিনি ওই হারে কমিশন নিতেন। তৎকালীন সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি কোটি টাকার কাজের বিল তুলে নেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন কাজ করে নি। জোটের শাসনামলে সাধারন ঠিকাদাররা দরপত্র কেনা কিংবা জমা দেয়ারও সাহস পেতেন না। সেই তুলনায় বরিশালে এখন পর্যন্ত কিছুই হয় নি। সাবেক ভিপি আনোয়ার হোসাইন বলেন, বরিশালের কোন দপ্তরে টেন্ডারবাজি হচ্ছে না। কোন কাজ কেউ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভাগিয়ে নিচ্ছে না। তিনি আরো বলেন যদি ঠিকাদারদের মিলিত সমজোতায় কোন একজন কাজের টেন্ডার পায় সেটাকে গুছ বলে না। দেখতে হবে জোর পূর্বক কোন ঘটনা ঘটছে কিনা; দরপত্র ছিড়ে ফেলা হচ্ছে কিনা। জেলা যুবলীগের সভাপতি জাকির হোসেন বলেন, টেন্ডার নিয়ে মাঝে মাঝে দু একটি অপ্রতিকর ঘটনার খবর শুনতে পাই। তবে তা দলের বিচ্ছিন্নভাবেই হচ্ছে। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অপ্রতিকর ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, বিগত সময়ে দলীয় লোকজন কাজ পায় নি। এজন্য তাদের কিছুটা ক্ষোভ বিক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটছে। যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা আবুয়াল হোসেন অরুন আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, তিনি নগরীর কোন দপ্তর নিয়ন্ত্রন করছেন না। নিজের কোন ঠিকাদারী লাইসেন্স নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক | |