চলতি বছরই শুরু হবে অযোধ্যায় নতুন মসজিদ নির্মাণ কাজ। সোমবার রামমন্দির উদ্বোধনের দিনে এমনটাই জানিয়েছেন মসজিদ প্রকল্পে জড়িত ইন্দো-ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশনের (আইআইসিএফ) এক জেষ্ঠ্য কর্মকর্তা।
বেশ অভিজাতভাবেই মসজিদটি নির্মান করা হবে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) নামানুসারে মুসলিমদের ধর্মীয় উপসনালয়টির নাম হবে ‘মসজিদ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ’।
অযোধ্যা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে ধন্নিপুরের ধূলিময় সমভূমিতে মসজিদের নির্মানকাজ শুরু হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হতে তিন-চার বছর সময় লাগতে পারে। তবে কাজটি সম্পন্ন করার জন্য এখনও পুরো তাহবিল সংগ্রহ করা সম্ভব হয় নি। রয়টার্স।
মসজিদ প্রকল্পের তদারকিকারী উন্নয়ন কমিটির প্রধান হাজী আরফাত শেখ বলেন, ‘পবিত্র রমজান শেষ হওয়ার পর আগামী মে মাসে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হবে। আমাদের প্রচেষ্টা ছিল মানুষের মধ্যে শত্রুতা, ঘৃণাকে একে অপরের প্রতি ভালবাসায় পরিণত করা এবং রূপান্তর করা… আপনি সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে নিন বা না মানুন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের বাচ্চাদের এবং জনগণকে ভাল জিনিস শেখাতে পারি তবে এই সমস্ত লড়াই বন্ধ হয়ে যাবে’। অযোধ্যায় ধর্মীয় উপাসনালয়কে ঘিরে বহু আগের ইতিহাস রয়েছে। সেই সঙ্গে জড়িত আছে দুই ধর্মের শত বছরের দ্বন্দ্ব ও সংঘাত। ঘটনা হচ্ছে, মোগল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মীর বাঁকি ১৫২৮ সালে অযোধ্যায় মসজিদ তৈরি করেন, যা পরবর্তী সময়ে বাবরি মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। তবে হিন্দুদের দাবি, রাম জন্মভূমিতে ‘রামের মন্দির ভেঙে’ মসজিদটি তৈরি করা হয়েছে। ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর করসেবকদের হামলায় মসজিদটি ধ্বংস হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতজুড়ে দাঙ্গা দেখা দেয়। তাতে দুই হাজার মানুষ নিহত হন, যাদের বেশির ভাগই সংখ্যালঘু মুসলমান।
২০১৯ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত জমির মালিকানার রায় মন্দিরের পক্ষে দেন। রায়ে বলা হয়, হিন্দু সম্প্রদায় ওই জায়গায় মন্দির নির্মাণ করতে পারবে এবং ওই শহরেরই অন্যত্র একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য মুসলিম সম্প্রদায়কে জায়গা দিতে হবে। ঘোষণার কয়েক মাসের মধ্যেই রামমন্দির নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে যায়। অবশেষে সোমবার রামমন্দির উদ্বোধন সম্পন্ন হয়।
মসজিদের জন্য বরাদ্দকৃত জমিটি আগে কৃষিকাজ এবং হযরত গদা শাহের বার্ষিক উৎসব বা উরসের জন্য ব্যবহার করা হত।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
ছাত্রদল নেতাদের বাধা: ফের আটকে গেল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক নির্মাণকাজ