নগরীতে টেন্ডারবাজদের দৌরাত্ম এবার মুখ খুললেন এমপি মনি
 (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
বরিশাল :: আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতির নানামুখী জালে আটকে পড়া বরিশালের আ’লীগ দলীয় এমপি মনিরুল ইসলাম মনি এবার দলের টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন। তিনি সাহসী কন্ঠে বললেন, বিসিসি মেয়র হিরনের আশির্বাদপুষ্ট যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা আবুয়াল হোসেন অরুনরাই টেন্ডারবাজীতে লিপ্ত। আর তাদের অন্যায় অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি চাউর ঘটিয়ে উল্টো তাকে টেন্ডারবাজ আখ্যা দেয়ার চেষ্টা চলছে। এদের প্রতিহত না করলে এখানকার উন্নয়ন সম্ভব নয়। বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি মনি ক্ষোভের সুরে বলেন, তার পরিবারের কেউ টেন্ডারবাজীর সঙ্গে সম্পূক্ত নন। এমনকি কারো নামে ঠিকাদারী লাইসেন্সও নেই। এমপি মনির পরিবার সমাজে শিক্ষিত ও প্রতিষ্টিত ব্যবসায়ী হিসাবেও পরিচিত। রাজধানী ঢাকায় নিজের ও পুত্রদ্বয়ের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সুতরাং তাদের টেন্ডারবাজী করার প্রয়োজন হয় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এমপি মনি।
তিনি বলেছেন, বিসিসি মেয়র হিরনের আশির্বাদপুষ্ট সংঘবদ্ধ অরুন চক্রটি বরিশালের দপ্তরগুলো নিয়ন্ত্রনে নিয়ে টেন্ডারবাজীর নানা কাহিনী ঘটিয়ে চলছে। বেশ কয়েক দিন আগে নিজ নির্বাচনী এলাকার একটি উন্নয়নমূলক কাজে কার্যাদেশ দেয়ার পরও কাজ শুরু না করার বিষয়টি আলাপ করতে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডে গিয়েছিলেন এমপি মনিরুল ইসলাম মনি। তিনি তত্তাবধায়ক প্রকৌশলীর কক্ষে গিয়ে দেখেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মহানগর আ’লীগের আহবায়ক শওকত হোসেন হিরনের সেকেন্ড ইন কমান্ড যুবলীগের বহিস্কৃত নেতা আবুয়াল হোসেন অরুন চেয়ারে অভদ্র স্টাইলে বসে আছেন। এমপির আগমন দৃষ্টিগোচর হলেও পাত্তা দেননি অরুন। নিজের ব্যাক্তিত্বের মর্যাদা ও ক্ষমতার প্রশ্নে অরুনের এহেন অভদ্রতায় রাগান্বিত হন তিনি। তিনি অরুনকে সেখান থেকে বের হয়ে যেতেও বলেন। এমপি মনিকে নিজের ক্ষমতার দাপট প্রর্দশন করতে তাৎক্ষনিক কক্ষ থেকে বের হয়ে যায় বিসিসি মেয়র হিরনের সেকেন্ড ইন কমান্ড অরুন। এরপর তার সহযোগী টেন্ডারবাজদের নিয়ে এমপি মনির উপর চড়াও হয়। মনির বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজরা নোংরা ভাষায় গালাগাল দেয়। সন্ত্রাসী হামলা থেকে রক্ষা পেতে দ্রুত নিরাপদে চলে যাওয়ার চেষ্টায় গাড়িতে উঠেন। তৎসময়ে তাকে ও তার পুত্রদের মারধর করার চেষ্টা করে। উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা মারধরের শিকার থেকে তাদেরকে রক্ষা করেছে। তবে মারধরের কবল থেকে রক্ষা পায় নি এমপির পিএস। তাকে বেধম মারধর করা হয়েছে। গাড়ি লক্ষ্য করে লাথি ও জুতা নিক্ষেপ করেছিল অরুনের সহযোগীরা। অথচ মিডিয়ায় প্রকাশ হলো টেন্ডারবাজী করতে গিয়ে লাঞ্চিত হলেন এমপি মনি।
এমপি বলেন, ওরা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ঢাকা দিতে সংবাদকর্মীদের ভুল তথ্য দিয়ে তাকে ফাঁসানের চেষ্টা করছে। মিডিয়ার লেখনীতে সমপ্রতি প্রধানমন্ত্রী আ’লীগ সভানেত্রী তাকে ঢেকেছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে হুশিয়ারী উচ্চারন করে বলেন, বরিশালে এসব কি হচ্ছে। কেন এরকম বিতর্কিত কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পূক্ত। এর বাইরে দেশের বাইরে কয়েক শুভাকাক্ষিও ফোনে এমপিকে প্রশ্ন রেখে বলেন কেন টেন্ডারবাজী করছি? প্রধানমন্ত্রীর সতর্ক সঙ্কেত আর শুভাকাঙ্খিদের অভিযোগ! অনেকটা হতাশ হয়ে পড়লেন এমপি মনি। এরকম পরিস্থিতিতে তিনি মিডিয়ায় জানান দিলেন, বিসিসি মেয়র হিরনের আশির্বাদপুষ্ট টেন্ডারবাজ অরুনদের যতসব বিতর্কিত কর্মকান্ড।
শুক্রবার রাতে প্রেসক্লাবে আহুত এক মতবিনিময় সভায় এমপি মনি বলেছেন বরিশালের উন্নয়নের লক্ষে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বরিশালে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, টেন্ডারবাজী দেখতে চান না। যারা দলের ব্যানারে এসব অন্যায় অনিয়ম করবে তাদের বিরুদ্ধে তিনি স্বোচ্ছার। এমপি মনি বলেন তার নিজ নির্বাচনী এলাকা উজিরপুর-বানারীপাড়া উপজেলায় দলের নেতা-কর্মীরা কাজ পাচ্ছেন না। তাদেরকে কোন কাজ দিতে পারছি না। দপ্তরগুলোর কাজ ভাগিয়ে নিয়ে আবার বিএনপি জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। আ’লীগ নেতা মনির বক্তব্য এদের আধিপত্য বন্ধ করতে দ্বায়িত্বশীল সচেতনদের ভূমিকা থাকা উচিৎ।
প্রসঙ্গত, বিসিসি মেয়র শওকত হোসেন হিরনের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত আবুয়াল হোসেন অরুন। তার বহুবিধ অন্যায় অপকর্মে যুবলীগ থেকে বহিস্কারও করেন হাইকমান্ড।কিন্তু এরপর অরুন বাহিনীর ক্ষমতার দাপট আগের মতই বহাল রয়েছে। বিসিসি মেয়রের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত প্রকাশ্যে বিচরন ঘটে অরুনের। অরুন বরিশাল চেম্বার অব কর্মাসের মেম্বর না হয়েও গতবারে বরিশাল আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলা নিয়ন্ত্রন করেছিলেন। এবারও তিনি বানিজ্য মেলা নিয়ন্ত্রন করছেন। মেলা নিয়ন্ত্রনের প্রভাব বিস্তার নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর ১১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রভাবশালী ঠিকাদার শফিকুল আলম গুলজারকে মারধর করে অরুন বাহিনী। এরমধ্যে ছিল ডলার, রেজবী, পলাশ, দোলনসহ যুবলীগের সন্ত্রাসীরা। এ প্রতিবেদকের নিকট অরুনদের সন্ত্রাসী হামলার বর্ননা করেন গুলজার। গুলজারের উপর হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত। উভয় গ্রুপে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |