Home » পিরোজপুর » ভান্ডারিয়া » ভান্ডারিয়ার চেয়ারম্যান দম্পতির জ্ঞাত আয়বহির্ভূত হাজার কোটি টাকার সম্পদ, দুদকের ২ মামলা
২৯ January ২০২৬ Thursday ১০:১৪:৩৯ PM
ভান্ডারিয়ার চেয়ারম্যান দম্পতির জ্ঞাত আয়বহির্ভূত হাজার কোটি টাকার সম্পদ, দুদকের ২ মামলা
ভান্ডারিয়া ((পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী মিসেস শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত হাজার কোটি টাকার সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধে পৃথক দুটি মামলা করেছে জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) পিরোজপুর সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আসামি ভান্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মিরাজুল ইসলাম (৪৮) তাঁর মালিকানাধীন ইফতি ইটিসিএল (প্রা.) লিমিটেড, ইফতি এন্টারপ্রাইজ ও সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামে জমি, বাড়ি, ফ্লাট এবং দোকান ক্রয় বাবদ ৩৬ কোটি ৭৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৪৭ টাকা স্থাবর এবং বিভিন্ন ব্যাংকে সঞ্চয়, মূলধন ও কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ এবং ৯টি গাড়ি ক্রয় বাবদ ৫০ কোটি ৬১ লাখ ৬৩৬ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৮৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪৯ হাজার ২৮৩ টাকা এবং পারিবারিক ব্যয় বাবদ ২৯ কোটি ৪৯ লাখ ৪৩ হাজার ১৭৬ টাকাসহ মোট ১১৬ কোটি ৮৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৯ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব পায় দুদক। পক্ষান্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস্য ১৭ কোটি ৭১ লাখ ৫ হাজার ৪৪৯ টাকা। তাঁর অর্জিত ও জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার ১০ টাকা মূল্যের সম্পদ আড়াল করে রাখায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন তিনি।
এ ছাড়া মিরাজুল ইসলাম ২ হাজার ৬৭৯ কোটি ৩৭ লাখ ১১ হাজার ৪০৪ টাকা সরকারি অর্থ আত্মসাৎপূর্বক ৯টি ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় জমাপূর্বক অবৈধভাবে অর্জন করেছেন, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অপর দিকে মিরাজুল ইসলামের স্ত্রী আসামি শামীমা আক্তার তাঁর মালিকানাধীন মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে অর্জিত ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার ২৫১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ভোগদখলে রেখে এবং এলজিইডির নিযুক্ত ঠিকাদার হিসেবে প্রকল্পের কাজ না করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎপূর্বক বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে অসদুদ্দেশ্যে স্থানান্তর ও হস্তান্তর করেছেন; যা মানি লন্ডারিং আইনের ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের কারণে মামলা করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্ত্রী শামীমা আক্তার তাঁর শিমু এন্টারপ্রাইজের নামে ব্র্যাক ব্যাংকের হিসাব হতে ১২২ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭০৮ টাকা স্থানান্তার ও হস্তান্তর করে মানি লন্ডারিং আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় তাঁদের বিরুদ্ধে দুদক এই মামলা করেছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা দুদকের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মো. মিরাজুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অপরাধে পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে এলজিইডি দপ্তর থেকে বিভিন্ন কাজের টেন্ডারে অংশ নিয়ে কার্যাদেশ গ্রহণপূর্বক কোনো কাজ না করেই প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অপরাধে জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ইতিমধ্যে আরও আটটি মামলা করেছেন।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
ভাঙ্গা–কুয়াকাটা ৬ লেনের ঘোষণা না আসায় দক্ষিণাঞ্চলে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ
কি কথা তাহার সনে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে শিরিনের আলাপ, রাজনৈতিক অঙ্গনে কানাঘুষা
বন্যা-পাহাড় ধস: সাত জেলায় প্রাণহানি ৫৪, ক্ষতিগ্রস্ত ৬ লাখের বেশি মানুষ
নিজেদের পরিবেশ নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে: বরিশালে তারেক রহমান