অধ্যক্ষের চেয়ার টেবিল দখল করে শেবাচিমে মেয়রপন্থী ছাত্রলীগ নেতাদের দুষ্টামি!
বরিশাল :: শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে অধ্যক্ষের রুম থেকে মেয়রপন্থী ছাত্রলীগ নেতাদের চেয়ার টেবিল সরিয়ে নেয়ার ঘটনায় বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়াও সর্ব মহলে। অনেকেই এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিরোধী ছাত্র সংগঠন ছাড়াও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেন অন্যান্য ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। এদিকে এ ঘটনাকে অধ্যক্ষের সাথে ছাত্রদের দুষ্টামি(!) বলে উপাধ্যক্ষ ডাঃ মাকসুমুল হক নিজেকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছেন।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর একাধিক অধ্যাপক আর সহযোগী অধ্যাপক রেখে স্বাচিপ নেতা সহকারী অধ্যাপক ডাঃ আবরার আহম্মেদকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগ করা হয়। ইতিপূর্বে উপাধ্যক্ষ থাকাকালীন তিনি বিসিসি’র মেয়র শওকত হোসেন হিরনের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনস্বরূপ সাধ করে নির্বাচন ছাড়াই মেয়রপন্থী ছাত্রলীগ নেতাদের দিয়ে ছাত্র সংসদ স্টাইলে গঠন করেন ছাত্র কল্যান পরিষদ। এ সময়ও বিধি ভঙ্গ করে অধ্যক্ষের পরিবর্তে তিনি এ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও নেন।
প্রায় ১ বছর পূর্বে ছাত্র কল্যান পরিষদের নেতৃবৃন্দ তৎকালীন অধ্যক্ষ ডাঃ আবরার আহমেদের কাছে সংগঠনের জন্য চেয়ার টেবিলসহ অন্যান্য আসবাব পত্র দাবী করে। কিন্তু নানা জটিলতা এবং আবরার আহাম্মেদ অবসরে যাওয়ায় তাদের সে দাবী আর পূরন হয়নি। রোববার ছাত্র কল্যান পরিষদের ভিপি মেয়রপন্থী ছাত্রলীগ নেতা মাশরেফুল ইসলাম সৈকত ও জিএস আওলাদুজ্জামান সৌরভের নেতৃত্বে অধ্যক্ষের অনুপস্থিতিতে তার রুমের সব চেয়ার টেবিল নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উপাধ্যক্ষ বিষয়টি নিষ্পত্তিতে ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে কথাও বলেন। এক পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ আসবাবপত্র ফেরৎ দেন।
এ নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে অধ্যক্ষ ডাঃ আবু তাহের কোন মন্তব্য করতে রাজি না হলেও উপাধ্যক্ষ ডাঃ মাকসুমুল হকের মতে ঘটনাটি দুষ্টামি ছিলো! তিনি বলেন, ছাত্ররা তার সঙ্গে মশকরা করেছে। এতে দোষের কিছু হয়নি।
এদিকে একটি মেডিকেল কলেজের মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আগামী দিনের চিকিৎসকদের এহেন কর্মকান্ডে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে নগর জুড়ে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর মেডিকেল কলেজে ছাত্রলীগ নেতাদের আভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দীর্ঘদিন বন্ধ রাখতে হয়েছিল কলেজ। অতি সমপ্রতি চাদাবাজির ঘটনা নিয়ে ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে ৫ ছাত্র শিবির নেতাকর্মী প্রহৃত হয়। তাদের মারধর করে পুলিশের হাতেও সোপর্দ করা হয়। মেডিকেল কলেজের কিছু ছাত্রলীগের নেতার এহেন বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য শুধু বিরোধী দল নয় স্বীয় দলের মধ্যেও বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনা নিন্দাজনক মন্তব্য করে স্থগিত হওয়া মহানগর ছাত্রলীগের আহবায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, শিক্ষক আমাদের পিতৃতূল্য অভিভাবক। তাদের সাথে এ ধরনের আচরন শুধু সংগঠন বিরোধী নয়, দেশ বিরোধী একটি গর্হিত কাজ। তিনি এ ঘটনায় নিন্দা জানানোর পাশাপাশি দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া উচিত বলে জানান।
একই ভাবে এ ঘটনায় নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মহাজোটের শরীক দল জাসদ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। সংগঠনের বিএম কলেজ শাখা সভাপতি সিদ্ধার্থ মন্ডল বলেন এ ধরনের ঘটনা শিক্ষক এবং ছাত্রদের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট করে। কোন সভ্য ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীর এমন আচরন হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মেডিকেল কলেজের এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক ছাত্রদল ও ছাত্র শিবির নেতৃবৃন্দ। জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হাফিজ আহাম্মেদ বাবলু বলেন, শুধু শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ নয় মহাজোট সরকার ক্ষমতা গ্রহনের পর দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নানান বিতর্কিত কর্মকান্ড অব্যাহত রেখেছে। তিনি বলেন, দোষী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা না নেয়ায় এ ধরনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। তাদের কর্মকান্ডে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাধারন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করলেও আতংকিত হয়ে মুখ খুলতে পারছেন না কেউ।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের দুই সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডাঃ আজিজ রহিম ও প্রফেসর ডাঃ গোলাম মাহমুদ সেলিম মেডিকেল কলেজের এ ঘটনাকে অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্খিত বলে মন্তব্য করেন।
বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ মিজানুর রহমানও এ ধরনের ঘটনায় ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অধ্যক্ষের চেয়ার টেবিল নিয়ে শুধু মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ নয় পুরো শিক্ষক সমাজকে অপমানিত করা হয়েছে। এ ধরনের কাজ শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র শিক্ষকদের মধ্যে বিরাজমান সুসম্পর্ক বাধা গ্রস্থ হবে। ফলে নষ্ট হবে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ারও দাবী জানান।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |