শেবাচিম হাসপাতাল: পাঁচ হাজার রোগীর জন্য মাত্র ১৩টি ট্রলি
বিশেষ প্রতিনিধি:
দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসাস্থল বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতাল। ৫৮ বছরের পুরোনো এ হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নিলেও তাদের পরিবহণের জন্য ট্রলি রয়েছে মাত্র ১৩টি। এর মধ্যে সচল থাকে ৯ থেকে ১০টি। ফলে গুরুতর রোগীকে কখনো স্বজনদের কোলে, আবার কখনো স্বজনদেরই ট্রলি ঠেলে ওয়ার্ডে নিতে হচ্ছে।
১৯৬৮ সালে ২৫০ শয্যা নিয়ে যাত্রা শুরু করে শেবাচিম হাসপাতাল। বর্তমানে হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা এক হাজার। তবে রোগীর চাপ বেড়ে দাঁড়িয়েছে কয়েকগুণ। হাসপাতালের আন্তঃবিভাগে প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। এর বাইরে বহির্বিভাগে প্রতিদিন কমপক্ষে আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা নেন। আন্তঃবিভাগে প্রতিদিন দেড় থেকে দুইশ রোগী নতুন করে ভর্তি হন। প্রায় সমসংখ্যক রোগী চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরেন।
এ বিপুলসংখ্যক রোগীর মধ্যে গুরুতর অসুস্থদের ওয়ার্ডে নেওয়া, এক ওয়ার্ড থেকে অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর এবং হাসপাতালের ভেতরে-বাইরে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্যাথলজি বিভাগে নেওয়ার ক্ষেত্রে ট্রলির প্রয়োজন হয়। কিন্তু প্রায় পাঁচ হাজার রোগীর জন্য হাসপাতালটিতে ট্রলি রয়েছে মাত্র ১৩টি।
এর মধ্যে নিয়মিত চলাচলের উপযোগী থাকে ৯ থেকে ১০টি; যা বর্তমান চাহিদার চেয়ে খুবই কম। বাকি ট্রলিগুলো বিভিন্ন সময় নষ্ট হয়ে মেরামতের জন্য সেবার বাইরে থাকে। রোগীর তুলনায় ট্রলির এ অপ্রতুলতা প্রতিদিনই তৈরি করছে দুর্ভোগ।
শুধু রোগী পরিবহণেই নয়, লাশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও ট্রলি সংকটের কারণে স্বজনদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। অনেক সময় রোগীর স্বজনরাই ট্রলি ঠেলে জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ার্ডে বা অন্য বিভাগে রোগী নিয়ে যান। এদিকে শুধু ট্রলির সংকটই নয়, রোগী পরিবহণে নিয়োজিত ট্রলিম্যানের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় কম। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে রোগী পরিবহণের জন্য তিন শিফটে ট্রলিম্যানের মোট ২১টি পদ রয়েছে। এসব পদে ২১ জন নিয়োগপ্রাপ্ত থাকলেও তাদের মধ্যে দুজনকে জরুরি বিভাগ থেকে আন্তঃবিভাগে দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে বর্তমানে তিন শিফটে জরুরি বিভাগে ট্রলিম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন ১৯ জন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, তিন শিফটে কর্মরত ১৯ ট্রলিম্যানের মধ্যে প্রতি শিফটে ছয়জন করে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু প্রতিদিন রোগীর চাপ বিবেচনায় এ সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে একই সময়ে একাধিক গুরুতর রোগী এলে ট্রলি ও ট্রলিম্যান দুটিরই সংকট প্রকট হয়ে ওঠে।
চাহিদা অনুযায়ী ট্রলিম্যান না থাকায় জরুরি বিভাগের অফিস সহায়কদেরও এ কাজে যুক্ত করতে হয়। জরুরি বিভাগের তিন শিফটে তিনজন অফিস সহায়ক দায়িত্ব পালন করেন। প্রতি শিফটে থাকা একজন অফিস সহায়ক জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের কক্ষে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ট্রলিম্যানের কাজ করেন।
এছাড়া জরুরি বিভাগে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া তিন শিফটে মোট ২৪ জন কর্মচারী দায়িত্ব পালন করেন। তাদের মধ্য থেকেও কয়েকজন অন্যান্য কাজের পাশাপাশি ট্রলিতে রোগী আনা-নেওয়ার দায়িত্ব পালন করেন। রোগীর স্বজন রামিন বলেন, আমার নানা স্ট্রোক করলে তাকে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে আসি। তাকে বহনের জন্য ট্রলি পাইনি। পরে একজন সিএনজিচালকসহ তিনজন মিলে তাকে কোলে করে তিনতলায় ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে হয়েছে। শেবাচিম হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মেহেদি হাসান বলেন, আমরা হাসপাতালে আসা রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাহামুদ হাসানের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
৩০ হাজার টাকা বেতনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে চাকরি, ৩ বেলা খাবারসহ নানা সুবিধা
বদর দিবস ও সমকালীন বিশ্ব: ঈমানি শক্তিতে জেগে ওঠার আহ্বান