যাত্রী-ফ্লাইট বাড়লেও বরিশাল বিমানবন্দরে সেবার মান বাড়েনি অনলাইন ডেস্ক
ক্রোমেই ঢাকা-বরিশালের আকাশ পথ এখন লাভজনক হয়ে উঠেছে। তৃতীয় সমুদ্রবন্দরসহ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়েওঠায় যাত্রী সংখ্যা বাড়ছে। বিমান সংস্থাগুলোও এখন ঢাকা-বরিশাল রুটের বাড়িয়েছে ফ্লাইটের সংখ্যা। তবে রানওয়েতে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় রাতে বিমান ওঠানামা করতে পারে না। তাছাড়া দীর্ঘদিনেও বরিশাল বিমানবন্দরের যথাযথ আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।
বিমান সংস্থাগুলো জানিয়েছে, যাত্রী বাড়ায় গ্রীষ্মকালীন শিডিউল অনুযায়ী আগামী ২৫ মার্চ থেকে ইউএস বাংলা সপ্তাহে চারদিন ও বিমান বাংলাদেশ তিনদিন ফ্লাইট চালাবে। অর্থাত্ শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের অন্য ছয় দিনই বরিশাল-ঢাকা রুটে বিমানে যাতায়তের সুযোগ থাকছে।
ঘোষিত সিডিউল অনুযায়ী ইউএস বাংলা সপ্তাহে শনি, সোম, বুধ ও বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইট পরিচালনা করবে। অন্য দিকে, বিমান বাংলাদেশ রবিবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে এবং বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে তাদের ফ্লাইট চালাবে। নতুন সিডিউলে বাংলাদেশ বিমানের সর্বনিম্ন একমুখী ভাড়া ২৭০০ টাকা। ইউএস বাংলা’র সর্বনিম্ন ভাড়া ৩৬০০ টাকা। বলাবাহুল্য যারা আগেভাগে টিকেট কিনবেন তারা সবনিম্ন ভাড়ায় তা কিনতে পারবেন। যাত্রার দিন এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ভাড়াও পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকবে।
বিমান বাংলাদেশের বরিশাল ব্যবস্থাপক মো. গোলাম মোস্তফা জানান, চলতি অর্থ বছরের চার মাস বাকি থাকলেও তারা এই রুটে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২০ ভাগ অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করেছেন।
তিনি বলেন, বরিশাল বিমানবন্দরে রানওয়েতে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা নেই। এ জন্য দিনের আলো থাকতে থাকতেই তাদের ফ্লাইট পরিচালনার কাজ শেষ করতে হয়। সন্ধ্যার পর একটি ফ্লাইটের চাহিদা থাকলেও রানওয়েতে লাইটের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের পক্ষে এ সময় ফ্লাইট চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
ইউএস বাংলার বরিশাল স্টেশন ম্যানেজার সাইফুর রহমান জানান, বিমানের আসনের চেয়ে যাত্রী সংখ্যা বেশি। তাই গ্রীষ্মকালীন নতুন সিডিউলে ফ্লাইট সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ সপ্তাহের প্রতিদিনই এ রুটে ফ্লাইট চালানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ রুটের যাত্রীরা জানান, বরিশাল বিমানবন্দরের পরিবেশ অত্যন্ত বাজে। টয়লেটসহ অন্যান্য সকল সুবিধা অত্যন্ত নিম্নমানের।
জানাগেছে, দীর্ঘ টানাপোড়েন কাটিয়ে বাংলাদেশ বিমানসহ বেসরকারি বিমানের ফ্লাইটও নামছে দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র বরিশাল বিমানবন্দরে। কিন্তু রানওয়ে লাইটিং না থাকায় ঝুঁকির পাশাপাশি সব ধরনের বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনাও ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিনেও বরিশাল বিমানবন্দরের যথাযথ আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। এছাড়া বরিশাল বিমানবন্দর এখনও অনেকাংশ অরক্ষিত। আছে নানা অব্যবস্থাপনা। আর সন্ধ্যা নামলেই অন্ধকারে অচল হয়ে পড়ে বিমানবন্দরটি।
জানা গেছে, এ বিমানবন্দরের উন্নয়নের ব্যাপারে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ চরম উদাসীনতা দেখিয়ে চলেছে। সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন যখন এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তখন কিছু উন্নয়ন কাজ শুরু হয়। কিন্তু সম্প্রতি তার দপ্তর বদলে যাওয়ায় সেসব উন্নয়ন কাজ প্রায় থেমেই গেছে। গত বছরের ২৩ নভেম্বর সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যানসহ প্রধান ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বিমানবন্দর পরিদর্শন করলেও সামান্যতম অগ্রগতি নেই এসব কাজের।
বরিশাল মেট্রোপলিন চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নিজাম উদ্দিন জানান, নির্মাণাধীন তৃতীয় সমুদ্রবন্দরের বিবেচনায় এ বিমানবন্দরের উন্নয়নে কর্তৃপক্ষ চরম উদাসীনতা দেখাচ্ছে।
তিনি বলেন, চেম্বারের সভাপতি হিসেবে কর্তৃপক্ষের কাছে এখানকার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বারবার দাবি জানিয়েও ফল মিলছে না। বিমানবন্দরে দিবা-রাত্রি যাতে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী বিমান ওঠানামা করতে পারে সে লক্ষ্যে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এ অঞ্চলে বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানান তিনি।
আরো পড়ুন…
বরিশাল-ঢাকা আকাশ পথে সপ্তাহে ৬ দিনেই উড়োজাহাজ
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |