Home » বরিশাল » সংবাদ শিরোনাম » সমমনা দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন: দলীয় প্রার্থী চায় বরিশালের তিন এলাকার বিএনপি
১৬ October ২০২৫ Thursday ১২:৫৬:০৮ PM
সমমনা দলগুলোকে ছেড়ে দেওয়ার গুঞ্জন: দলীয় প্রার্থী চায় বরিশালের তিন এলাকার বিএনপি
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থানে থাকা আসনগুলো ছাড়তে রাজি নয় বরিশালের ৩ নির্বাচনি এলাকার বিএনপি। দলীয় প্রার্থীদের জয় যেখানে প্রায় নিশ্চিত, সেখানে কেন অন্যদের কাছে আসন ছাড়তে হবে-সেটাই প্রশ্ন নেতাকর্মীদের। বিষয়টি নিয়ে চলছে কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানানোর প্রস্তুতি। এলাকায় জনসমর্থন বা অবস্থান না থাকা অন্য দলের নেতারা যাতে বিএনপিকে ব্যবহার করে সংসদ-সদস্য হতে না পারেন-এমনই দাবি তাদের।
বরিশালের ৬ জেলায় ২১ নির্বাচনি এলাকা। এর সবকটিতেই প্রায় চূড়ান্ত বিএনপির দলীয় প্রার্থী। যদিও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি দল। তবে চলতি মাসের শেষ নাগাদ সবুজ সংকেত পেতে পারেন প্রার্থীরা। এই ২১ আসনের মধ্যে ৩টি নিয়ে বেঁধেছে জটিলতা। অনেকে বলছেন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা সমমনা দলগুলোকে দেওয়া হতে পারে এসব আসন। বিষয়টি মানতে নারাজ দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। মনোনয়নের আশায় বছরের পর বছর মাঠে থাকা নেতারাও জানিয়েছেন বিরূপ প্রতিক্রিয়া। বহু কষ্টে গোছানো মাঠ হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসাদের দিতে রাজি নয় তারা। অন্য দলের যারা চাইছেন, নির্বাচনি এলাকায় তাদের অবস্থান কিংবা জনসমর্থন কতটুকু, তা খতিয়ে দেখারও দাবি উঠেছে। আলোচ্যদের মধ্যে এমন নেতাও আছেন, যাদের ’৯০-পরবর্তী সময়ে নেই ভোটে জেতার কোনো রেকর্ড। জেতা তো দূরে, নির্বাচনে নেমে জামানত খোয়ানোর ইতিহাসও রয়েছে। এমন বাস্তবতায় দলীয় প্রার্থীদেরই মনোনয়ন চান বিএনপির নেতাকর্মীরা।
পিরোজপুর-১ (জিয়ানগর-সদর-নাজিরপুর) আসনে মনোনয়নের আশায় মাঠে আছেন বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতা। তবে কয়েকদিন ধরে শোনা যাচ্ছে যে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হতে পারে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারকে। ’৯০-পরবর্তী কোনো নির্বাচনে এখানে জয়ী হননি তিনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৮ হাজার ভোট পেয়ে হারান জামানত। সেবার তিনি ভোট করেন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী হিসাবে। তাই আসন ছাড়া নিয়ে ক্ষুব্ধ সেখানকার নেতাকর্মীরা। এখানে জামায়াতের প্রার্থী করা হয়েছে মরহুম দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পুত্র মাসুদ সাঈদীকে। শক্তিশালী এই প্রার্থীর বিরুদ্ধে কতটা এগোতে পারবেন হায়দার, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইদুল ইসলাম কিসমত বলেন, ছেড়ে দিতে দিতে এখানে দুর্বল হয়ে পড়েছিল বিএনপি। জামায়াতকে দুবার ছেড়ে দেওয়া হয় আসন। ফলে কর্তৃত্বের জায়গা তৈরির সুযোগ পায় তারা। গত কয়েক বছর আপ্রাণ পরিশ্রমের পর দল সুসংগঠিত করেছি আমরা। নাজিরপুরে কারাগারে থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন আমাদের জেলা আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম খান। পিরোজপুর সদরেও অবস্থান এখন অনেক শক্তিশালী। দিনরাত পরিশ্রমে যে অর্জন, তা কেন অন্য দলের হাতে তুলে দিতে হবে?
জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, যদি এমন হতো যে এখানে তাদের (জাপা-জাফর) শক্তিশালী সংগঠন, কিংবা বিপুল জনসমর্থন রয়েছে, তাও মেনে নিতাম। এখানে প্রচার-প্রচারণা থেকে নির্বাচনি সব কাজ করে দিতে হবে আমাদের। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়ার কাজটি পর্যন্ত করতে হবে বিএনপি নেতাকর্মীদের। সবই যদি আমাদের করতে হয়, তাহলে অন্য দলের জন্য কেন করব? ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে অনুরোধ, বিষয়টি যেন তিনি বিবেচনা করে দেখেন। ধানের শীষের নিশ্চিত আসন কেন ছেড়ে দেব আমরা?
সবচেয়ে বেশি জটিলতা দেখা দিয়েছে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন নিয়ে। একসময় আওয়ামী লীগের ভোটের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত হলেও আসনটি এখন বলতে গেলে পুরোপুরি বিএনপির। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত দারুণ শক্তিশালী এখন দল। এটা সম্ভব হয়েছে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুনের কারণে। বেশ কয়েক বছর ধরে একটু একটু করে বিএনপিকে গুছিয়েছেন তিনি। প্রতিদান হিসাবে এলাকার মানুষও ঐক্যবদ্ধ তার সঙ্গে। তিনি ছাড়া এই আসনে এখন পর্যন্ত আর কেউ চায়নি বিএনপির মনোনয়ন। সবকিছু যখন এগোচ্ছে মসৃণ গতিতে, ঠিক তখনই গোল বেঁধেছে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে নিয়ে। ভিপি নুর নামে পরিচিত এই নেতাকে আসনটি ছেড়ে দিতে পারে বিএনপি-এমন আলোচনা এলাকায়। এতে ক্ষুব্ধ নির্বাচনি এলাকার বিএনপির নেতাকর্মীরা।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, একটি নির্বাচনি এলাকার মানুষের আস্থা অর্জন করতে ঠিক কতটা কষ্ট হয়, তা আমরা জানি। জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনে তাকে (নুর) যদি আসন দিতেই হয় তো রাজধানীতে দেওয়া হোক। তিনি যেহেতু জাতীয় নেতা, তাকে রাজধানীতেই মানায়। আমাদের আসন নিয়ে টানাটানি কেন?
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান বলেন, সাংগঠনিক শক্তি আর জনপ্রিয়তা থাকলে তো নিজ দল আর নিজস্ব প্রতীক নিয়েই সংসদ সদস্য প্রার্থী হতেন তিনি। সেসবে ঘাটতি আছে বলেই আমাদের ঘাড়ে চেপে সংসদে যেতে চাইছেন। কিন্তু আমরা কেন আমাদের নিশ্চিত আসন ছেড়ে দেব? আমি কেন্দ্রকে বলব, দয়া করে তারা যেন এটি ভেবে দেখেন।
ঢাকা ও ভোলার দুটি আসনে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন বিজেপি (নাজিউর) চেয়ারম্যান সাবেক এমপি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। এক্ষেত্রে ভোলায় তার নির্বাচনি এলাকা ভোলা-১ সদর আসন। এই আসন থেকে এর আগেও বিএনপির সমর্থনে সংসদ-সদস্য হয়েছিলেন তিনি। এবারও ভোলা সদর আসন তাকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর বলেন, এটা বিএনপির নিশ্চিত আসন। বহুবার এখানে জিতেছে বিএনপি। আসনটি কেন অন্য দলকে দেওয়া হবে? তিনি (পার্থ) রাজধানীর যে আসনে নির্বাচন করতে চাইছেন, সেটির ব্যাপারে কোনো আপত্তি নেই। ভোলা সদর আসন যেহেতু বিএনপির ঘাঁটি, তাই এখানে দলীয় প্রার্থী চাই আমরা।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, ব্যক্তির চেয়ে দল আর দলের চেয়ে দেশ বড়। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যেটাই করবেন, সেটা দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা ভেবেই করবেন। এখানে ব্যক্তি কিংবা দল জরুরি নয়। কেবল একটা কথা জানি, এখন যে যাই বলুক, নির্বাচনে দল যে সিদ্ধান্ত দেবে, তা কেউ অমান্য করবে না। বিএনপির মতো একটি বড় দলে যেমন নেতা হওয়ার মতো হাজার হাজার যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন, তেমনই প্রতিটি আসনে এমপি হওয়ার মতো দক্ষ পরীক্ষিত লোকেরও অভাব নেই। তবে শেষ পর্যন্ত সবাই দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলে। আর এটাই বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির সৌন্দর্য।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
দিন দিন বাড়ছে নগর, কমছে বিসিসি’র গৃহকর আদায়
ধুঁকছে দক্ষিণাঞ্চলের চিকিৎসাসেবা: প্রতি ১০ হাজার মানুষের চিকিৎসক মাত্র ১ জন
চার সপ্তাহের মধ্যে হাম নিয়ন্ত্রণে আসবে:বরিশালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হঠাৎ বরিশাল সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, কর্মচারীকে বরখাস্ত
বরিশালে আবাসিক হোটেলে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, আটক ৩