বরিশাল জেলার গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন-৬ (বাকেরগঞ্জ) ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। স্বাধীনতার পর থেকে একাধিকবার এ আসনে বিএনপির আধিপত্য বজায় থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দৃশ্যপট অনেকটাই বদলে গেছে। একদিকে বিএনপি তাদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে মরিয়া, অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং জামায়াতে ইসলামী পরিবর্তনের ডাক দিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে।
১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৩। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এখানে পুরুষ (১,৬০,০৫৫) এবং নারী ভোটারের (১,৫৫,৫৩৮) সংখ্যা প্রায় সমান। বিশ্লেষকদের মতে, নারী ভোটারদের এই বিশাল অংশ এবং কয়েক হাজার নতুন ভোটারের মনোভাবই এবারের নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণের মূল চাবিকাঠি হবে। এবারের নির্বাচনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাঠের প্রধান লড়াই হবে ত্রিমুখী। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম (হাতপাখা) ও জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুন নবী তালুকদার। এ ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান ও মুসলিম লীগের আব্দুল কুদ্দুস নির্বাচনী দৌড়ে রয়েছেন।
১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। এবার বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খান বলছেন, ‘বাকেরগঞ্জের মানুষ আমাকে চেনে। উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপির কোনো বিকল্প নেই।’ তবে শক্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ফয়জুল করীম। তিনি নিয়মিত গণসংযোগ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের একটি বিশাল ভোটব্যাংক এবং নিরাপদ সমাজপ্রত্যাশী নারীরা এবার ‘হাতপাখা’ প্রতীকের দিকে ঝুঁকছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাহমুদুন নবী সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের বিকল্প হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অধ্যক্ষ মো. হাসেম মিয়া মনে করেন, নারী ও তরুণ ভোটাররা এখন শুধু রাজনৈতিক বক্তৃতায় সন্তুষ্ট নন। তারা বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন চান। তাদের চাহিদার মূলে রয়েছে পাঁচটি মৌলিক বিষয়– সামাজিক নিরাপত্তা, আধুনিক শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন।
দীর্ঘ বিরতির পর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিযোগিতামূলক ভোট হওয়ায় বাকেরগঞ্জের মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও প্রত্যাশা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে বাকেরগঞ্জ-৬ আসনে এক নতুন রাজনৈতিক মেরূকরণ দেখা যেতে পারে। উন্নয়নের রোডম্যাপ বনাম নৈতিক রাজনীতির এই লড়াই এখন মানুষের প্রধান আলোচনার বিষয়। কথা হলে অনেক সাধারণ ভোটাররা জানান, আমাদের একটাই চাওয়া, যে কোনো সমস্যার কার্যকর সমাধান। পৌর এলাকার নারী ভোটার রোজিনা বেগম ও শিক্ষার্থী নাসরিন আক্তারের মতে, ‘যিনি বিপদে পাশে থাকবেন এবং নারীদের সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করবেন, আমরা তাকেই বেছে নেব।’ কৃষক সাইফুল ইসলামের মতে, সার ও বীজের ন্যায্য দামের নিশ্চয়তা যে দেবে, তার দিকেই ব্যালট ঘুরবে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৩ দিন মোটরসাইকেল ও একদিন ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ
আশিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী
বরিশালে পাঠদান বন্ধ রেখে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে শিক্ষক নেতাদের মতবিনিময়
জালিয়াতিতে বাংলাদেশ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন: প্রধান উপদেষ্টা
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পরিদর্শনে পটুয়াখালীতে সেনা প্রধান