নেছারাবাদে সাগরগামী জেলেদের তালিকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস ইউএনওর
নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
নেছারাবাদ উপজেলায় সাগরগামী জেলেদের তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে সাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা পেশাদার অনেক জেলের নাম নতুন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা। অন্যদিকে নতুন তালিকায় এমন ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে জেলে পেশার সঙ্গে জড়িত নন।
ভুক্তভোগী জেলেদের দাবি, নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত অনেকেই কখনো সাগরে তো দূরের কথা, নদীতেও মাছ ধরতে যান না। উপজেলা মৎস্য অফিসের ক্ষেত্র সহকারী প্রদীপ সূতারের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত ও বাদ দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রদীপ সূতার।
জেলেদের অভিযোগ, তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ায় তাঁরা সরকারি সহায়তা, ভর্তুকি ও বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। এতে প্রকৃত সাগরগামী জেলেদের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। পাশাপাশি অপেশাদার ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করায় উপজেলা মৎস্য বিভাগের কার্যক্রম গ্রহণযোগ্যতা হারাবে।
জলাবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ কামারকাঠি গ্রামের জেলে মো. রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি ছয় বছর ধরে সাগরে মাছ ধরতে যাই। আগে আমার নাম সাগরগামী জেলের তালিকায় ছিল। কিন্তু নতুন তালিকা থেকে আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ যাদের নাম রাখা হয়েছে, তাদের অনেকেই কখনো মাছ ধরতে যায় না।’
একই ইউনিয়নের জেলে মো. আল-আমীন বলেন, ‘আমার নাম আগের তালিকায় ছিল এবং সরকারি সুবিধাও পেতাম। এবার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মৎস্য অফিসের প্রদীপ বাবু আমাদের কাছে টাকা চেয়েছিলেন। টাকা না দেওয়ায় আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।’
জলাবাড়ী জেলে সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. তোফাজ্জেল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘নতুন তালিকায় সমুদয়কাঠি, সুটিয়াকাঠি, কুড়িয়ানা, ভরতকাঠি, স্বরূপকাঠি পৌরসভা ও জলাবাড়ীর অনেক ভুয়া জেলের নাম রাখা হয়েছে। জলাবাড়ীতে আগে ১৯ জনের নাম ছিল, এখন ১৩ জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাদ পড়াদের মধ্যে কয়েকজন নিয়মিত সাগরে মাছ ধরেন।’
অভিযুক্ত প্রদীপ সূতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি তালিকায় কিছু করিনি। তালিকা করেছেন মৎস্য কর্মকর্তা। আর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব এবং ইউএনও স্যার এগুলো তদন্ত করেছেন। তালিকায় আমার কোনো হাত নেই।’
নেছারাবাদ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম হাফিজ বলেন, ‘তালিকায় কিছু ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। নতুন করে যাচাই-বাছাই করা হবে। একই ব্যক্তি দুই ধরনের সরকারি সুবিধা পাবেন না। যাঁরা ক্ষুদ্র জেলে তালিকায় চাল পান, তাঁরা সাগরগামী তালিকায় সুবিধা পাবেন না।’
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্ত বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ আমাদের নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে পৌরসভার তালিকা স্থগিত করা হয়েছে। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত জেলেদের তালিকাভুক্ত করা হবে। কোনো অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না।’
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
দিন দিন বাড়ছে নগর, কমছে বিসিসি’র গৃহকর আদায়
ধুঁকছে দক্ষিণাঞ্চলের চিকিৎসাসেবা: প্রতি ১০ হাজার মানুষের চিকিৎসক মাত্র ১ জন
চার সপ্তাহের মধ্যে হাম নিয়ন্ত্রণে আসবে:বরিশালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হঠাৎ বরিশাল সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, কর্মচারীকে বরখাস্ত
বরিশালে আবাসিক হোটেলে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, আটক ৩