Home » বরিশাল » বরিশাল সদর » আবাসন সংকটে বরিশালের চার সরকারি কলেজের ৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থী
১১ October ২০২৬ Sunday ১০:২৬:৫২ PM
আবাসন সংকটে বরিশালের চার সরকারি কলেজের ৯৭ শতাংশ শিক্ষার্থী
এম,এম,এইচ,চুন্নু।।বিশেষ প্রতিনিধি:
বরিশালের চারটি সরকারি কলেজে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের বড় অংশের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা নেই। প্রায় ৬৩ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে কলেজগুলোর আবাসিক আসন মাত্র ১ হাজার ৮০০টি। ফলে ৯৭ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীকে আবাসিক সুবিধার বাইরে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
কেউ থাকছেন নগরীর বিভিন্ন মেস কিংবা ভাড়া বাসায়, আবার আর্থিক অসচ্ছলতা ও আবাসনসংকটের কারণে অনেকে নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিতে পারছেন না। এর প্রভাব পড়ছে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি ও শিক্ষা কার্যক্রমে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের অভাব হয়ে উঠেছে বড় বাধা।
জানা গেছে, বরিশালের চারটি সরকারি কলেজের মধ্যে ব্রজমোহন কলেজে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রায় ৩২ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটিতে আবাসিক আসন রয়েছে মাত্র ১ হাজার ২০০টি। কলেজটিতে বর্তমানে ছয়টি আবাসিক হল থাকলেও সেগুলোর অধিকাংশই জরাজীর্ণ। কোনো কোনো হলে ধারণক্ষমতার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ শিক্ষার্থীকে থাকতে হচ্ছে। নতুন বিভাগ চালু হওয়া ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও দীর্ঘ ৩৭ বছরে কলেজটিতে নতুন কোনো আবাসিক হল নির্মিত হয়নি।
‘কলেজের বিদ্যমান আবাসিক হলগুলোর অবস্থা ভঙ্গুর। সেগুলো সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।’
দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২২টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) এবং ২১টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর কার্যক্রম চালু রয়েছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত আবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় তাদের একটি বড় অংশ নগরীর বিভিন্ন মেসে বসবাস করছেন। কলেজের নিজস্ব সম্পত্তি থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
একই অবস্থা নগরীর সরকারি বরিশাল কলেজের। এ কলেজের আবাসন পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। উচ্চমাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যায় পর্যন্ত প্রায় ৯ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও তাদের জন্য কোনো আবাসিক ব্যবস্থা নেই। ফলে দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মেস কিংবা ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। অনেকের জন্য এই ব্যয় বহন করা উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরকারি বরিশাল কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. মহিউদ্দিন বলেন, এখানে ছেলেদের তুলনায় মেয়েশিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অন্তত একটি আবাসিক হল নির্মাণ করা জরুরি। আবাসনের অভাবে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হারও অত্যন্ত কম বলে জানান তিনি।
‘আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ক্লাসে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা ছিল না। বর্তমানে ৬০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকা প্রয়োজন, অন্যথায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় না। এ কারণে বরিশালের বাইরের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস করতে শহরে থাকা অনেকটা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে।’
এদিকে সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজেও শিক্ষার্থীর তুলনায় আবাসিক আসন খুবই কম। উচ্চমাধ্যমিক, বিএ, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায় মিলিয়ে কলেজটিতে প্রায় ১১ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে আবাসিক সুবিধা পান মাত্র ১০০ জন ছাত্র। অর্থাৎ প্রায় ১০ হাজার ৯০০ শিক্ষার্থী এই সুবিধার বাইরে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের মেস কিংবা ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে। যা পড়াশোনার উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, সরকারি মহিলা কলেজে একই পর্যায়গুলোতে অধ্যয়নরত ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। তাদের জন্য আবাসিক আসন রয়েছে মাত্র ৫০০টি। ফলে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ ছাত্রীকে আবাসিক সুবিধা ছাড়াই পড়াশোনা করতে হচ্ছে। নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসনের প্রয়োজনীয়তা বেশি হলেও আসনসংখ্যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বছরের পর বছর তাদের সংখ্যা বাড়লেও সেই অনুপাতে আবাসন সুবিধা বাড়ানো হয়নি। বিদ্যমান হলগুলোর অনেকগুলোও সংস্কারের অভাবে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে উচ্চশিক্ষার জন্য বরিশালে আসা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের মেস বা বাসাভাড়ার পেছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
‘আবাসন সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সংকট আরও তীব্র হবে। এতে নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ, শিক্ষার পরিবেশ এবং উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত নতুন আবাসিক হল নির্মাণসহ পুরাতন হলগুলো সংস্কার ও আধুনিকায়ন করতে হবে।’
ব্রজমোহন কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী জুনায়েদ আহমেদ বলেন, শুধু নতুন আবাসিক হল নির্মাণ নয়, বিদ্যমান হলগুলোরও দ্রুত সংস্কার ও আধুনিকায়ন করতে হবে।
আরেক শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বলেন, আবাসন সমস্যার সমাধান না হলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সংকট আরও তীব্র হবে। এতে নিয়মিত ক্লাসে অংশগ্রহণ, শিক্ষার পরিবেশ এবং উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের সুযোগ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই দ্রুত নতুন আবাসিক হল নির্মাণসহ পুরাতন হলগুলো সংস্কার ও আধুনিকায়ন করতে হবে।
ব্রজমোহন কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিদ বিন সালাউদ্দিন বলেন, আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ক্লাসে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা ছিল না। বর্তমানে ৬০ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকা প্রয়োজন, অন্যথায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যায় না। এ কারণে বরিশালের বাইরের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস করতে শহরে থাকা অনেকটা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে।
ওয়ালিদ বলেন, শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য হলে পর্যাপ্ত আসন নেই। আবার অনেকের পক্ষে মেসে থাকার খরচ বহন করাও সম্ভব নয়। বিদ্যমান হলগুলোর অবস্থাও ঝুঁকিপূর্ণ। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হলে থাকতে হচ্ছে।
ব্রজমোহন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাজী জাবের আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, কলেজের বিদ্যমান আবাসিক হলগুলোর অবস্থা ভঙ্গুর। সেগুলো সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আবাসন সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ এর অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আখতারুজ্জামান খান জাগো নিউজকে বলেন, ১১ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসিক সুবিধা রয়েছে মাত্র ১০০ এর কিছু বেশি। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এ সমস্যা সমাধানে নতুন একটি আবাসিক হল নির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন দেওয়া হলে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালের সাবেক ডিসি-এডিসির দুর্নীতি:ভুয়া বিল-ভাউচারে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
শেবাচিম হাসপাতাল: অতিরিক্ত শয্যাতেও ঠাঁই নেই
তদবিরে বিপাকে শিক্ষা বোর্ড: বরিশালে চাহিদার দ্বিগুণ পরীক্ষাকেন্দ্র
স্বামী রিফাত হত্যার বিচার শেষ হয়নি ৭ বছরেও: কনডেম সেলে অপেক্ষা ফুরায় না মিন্নির