রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের পাশের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। মহাসড়কের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর সেতুর সংযোগ সড়ক ঘেঁষে কয়েক দিন ধরে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে দোকানঘর নির্মাণ করছেন। ঘর নির্মাণের ওই জমির মালিক সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সওজের জমি দখল করে দোকান নির্মাণের এ কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাহিন্দ্রা (টেম্পো) শ্রমিক ইউনিয়ন বাবুগঞ্জ শাখার আহ্বায়ক আলী হোসেন। নির্মাণাধীন দোকানঘরগুলোর পেছনেই তাঁর বাড়ি। তিনি এলাকায় বিএনপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত। আলী হোসেনের দেখাদেখি তাঁর আত্মীয়স্বজনও সেখানে দোকানঘর নির্মাণ শুরু করেন।
তবে সরকারি এই দপ্তরের বরিশালের কর্মকর্তারা দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে সওজ কর্মকর্তারা বলছেন, দখলদারদের দোকান নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য চিঠি দেওয়া হলেও তাঁরা তা শুনছেন না। তাঁরা দোকানঘরের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর পশ্চিম প্রান্তের সংযোগ সড়কের পূর্ব পাশে কাঠ দিয়ে ১০টি দোকানঘর নির্মাণকাজ চলছে। কাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। ঘরের ছাউনির কাজ বাকি রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আলী হোসেন ছাড়াও তাঁর চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর হোসেন, বারেক মিয়া, মো. আলম, কালু মিয়া, আলী হোসেনের ভাতিজা শহীদ, ভাগনি জেসমিন ও পপি প্রত্যেকে আলাদাভাবে দোকানঘর নির্মাণ করছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মহাসড়কের এই এলাকাটি দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত এবং ব্যস্ততম এলাকা। ওই অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়ী মোকাম রহমতপুর বাজার ও বাসস্ট্যান্ড অবস্থিত। কাছেই বরিশাল বিমানবন্দর। সেতুর যে প্রান্তে দোকানঘর নির্মিত হচ্ছে, সেখানকার পূর্বদিকে আসা হিজলা-মুলাদী সড়ক ও মহাসড়কের সংযোগ মুখ।
অভিযোগের বিষয়ে আলী হোসেন বলেন, ‘টেম্পোশ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয় করার জন্য একটি ঘর তৈরি করছিলাম। কিন্তু আমার দেখাদেখি বাড়ির অন্যরাও দোকানঘর তুলতে শুরু করেন। তাঁরা সবাই আমার নিকটাত্মীয়।’
আলী হোসেনের দাবি, ওই জমির মূল মালিক ছিলেন তাঁর দাদা আজহার আলী। মহাসড়কের জন্য সওজ জমি অধিগ্রহণ করেছে। তবে বিনিময়ে তাঁরা টাকা পাননি। সেতু নির্মাণের পর খালি জমি রয়েছে, সেখানে তাঁরা ঘর তুলছেন।
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশালের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, দখলদারদের চিহ্নিত করে তালিকা করা হয়েছে। তাঁদের স্থাপনা নির্মাণকাজ বন্ধের জন্য চিঠিও দেওয়া হয়েছে, কিন্তু দখলদারেরা সরকারি নির্দেশ মানছেন না। তাঁরা কাজ চলমান রেখেছেন। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
দিন দিন বাড়ছে নগর, কমছে বিসিসি’র গৃহকর আদায়
ধুঁকছে দক্ষিণাঞ্চলের চিকিৎসাসেবা: প্রতি ১০ হাজার মানুষের চিকিৎসক মাত্র ১ জন
চার সপ্তাহের মধ্যে হাম নিয়ন্ত্রণে আসবে:বরিশালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হঠাৎ বরিশাল সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, কর্মচারীকে বরখাস্ত
বরিশালে আবাসিক হোটেলে যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু, আটক ৩